ভিডিও ফাঁসের আশঙ্কায় রয়েছেন যুব মহিলা লীগের সদ্য বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়ার ডেরায় যাতায়াতকারী ভিআইপিরা। ইতোমধ্যে একাধিক ভিআইপির নাম গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সারা দেশে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এসব হাইপ্রোফাইল ভিআইপিদের আসল চরিত্র ফাঁস হয়ে পড়ায় তাদের অজানা তথ্য নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের কোনও শেষ নেই।
ইতোমধ্যে পাপিয়ার ঘনিষ্ঠ হিসেবে ৩ প্রভাবশালীর নাম এসেছে গণমাধ্যমে। যাদের একজন কথিত রাজনীতিবিদ মুরাদ, ব্যবসায়ী বজলুর রহমান ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রেম। মহিলা যুবলীগের আরও কয়েকজনের আমলনামা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। শিগগির তাদের বিরুদ্ধেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান শুরু হবে। সন্দেহভাজনদের নজরদারির মধ্যে আনা হয়েছে।
তবে সবকিছু ছাপিয়ে সমাজের যেসব ডাকসাইটে দুর্নীতিবাজ আমলা, রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী পাপিয়াদের ডেরায় প্রটোকল ছাড়া হাজির হতেন, তারা এখন গোপন ভিডিও ফাঁসের আতঙ্কে আছেন। দুর্নীতি সংক্রান্ত বড় বড় কাজের লেনদেনের সাক্ষীও এদের কয়েকজন। তাদের ধারণা, পাপিয়ার সহযোগীরা যে কোনো সময় তাদের গোপন ভিডিও ক্লিপ ছেড়ে দিতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুব মহিলা লীগের এক নেত্রী বলেন, সচিবালয়ে পাপিয়ার অবাধ যাতায়াত ছিল। এমনও হয়েছে-একজন সচিবের দফতরে ওয়েটিং রুমভর্তি দর্শনার্থী ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সাক্ষাৎ পাননি। স্যার গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে আছেন বলে তার পিএস অনেককে ফিরিয়ে দিয়েছেন। অথচ রুমের ভেতরে সচিব পাপিয়ার সঙ্গে খোশগল্পে মত্ত।
একাধিক প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে থাকলেও পাপিয়ার ফোন এলে তাৎক্ষণিক ফোন ধরেন। জনৈক সচিবের কাছে জান্নাতুল মাওয়া নামের এক তরুণীকে পাঠাতেন পাপিয়া। সচিব তার মোবাইল ফোনে ওই তরুণীর মোবাইল নম্বর সেভ করেন ‘মাওয়া ফেরিঘাট নামে’। যাতে স্ত্রী বা পরিবারের সদস্যরা তার লাম্পট্যের বিষয়টি কখনও টের না পান।
সূত্র জানায়, পাপিয়া দরিদ্র ঘরের অনেক তরুণীকে চাকরির প্রলোভন দিয়ে ঢাকায় নিয়ে আসেন। এরপর চড়া মেকআপ আর পাশ্চাত্য পোশাকে তাদের অনেককে মডেল বানানো হতো। পেশাদার ফ্যাশন ফটোগ্রাফার দিয়ে ছবি তোলায় গ্রামের তরুণী রাতারাতি শোবিজের মডেলে পরিণত হন।
এসব কথিত মডেলের ছবি ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের ভাইবার, হোয়্যাটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে পাঠাতেন পাপিয়া। পছন্দ হলে বুক করার জন্য পাপিয়াকে অনুরোধ করতে হতো। এভাবে গ্রাম থেকে আসা অনেক তরুণী পাপিয়ার অপরাধ জগতে মিশে নিজেদের ভাগ্যের চাকা রাতারাতি ঘুরিয়েছেন।
আবার অনেকেই চাকরির খোঁজে পাপিয়ার কাছে ধরা দেয়ার পর এই নরকে পা রাখতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের কেউ কেউ পাপের জগৎ থেকে বেরিয়ে যেতে চাইলেও পারেননি। কারণ, তাদের কারও কারও একান্ত মুহূর্তের ভিডিও গোপনে ধারণ করে রাখেন পাপিয়া। এসব ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অনেক তরুণীকে ব্ল্যাক-মেইল করেন তিনি।

