ভোটকেন্দ্রে ভোটারের ঢল, সারাদেশে নির্বাচনী আমেজ



১৭ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আজ এক নতুন ভোরে জেগেছে বাংলাদেশ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোটে অংশ নিতে আজ বৃহস্পতিবার সূর্য ওঠার আগেই জনস্রোত আছড়ে পড়েছে ভোটকেন্দ্রগুলোতে।

ভোরের কুয়াশা উপেক্ষা করে ভোটাধিকার প্রয়োগের নেশায় রাজধানী থেকে গ্রাম—সর্বত্রই এখন উৎসবের আমেজ।

ভোর থেকেই কেন্দ্রে দীর্ঘ সারি

রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারা ও হাতিরঝিলের আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১১ সংসদীয় আসনের চিত্রটি ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরুর কথা থাকলেও, ভাটারা এলাকার একেএম রহমত উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে সকাল ৬টা থেকেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই লাইন শুধু দীর্ঘই হয়নি, বরং তা ছড়িয়ে পড়েছে আশেপাশের গলিগুলোতেও।

একই চিত্র দেখা গেছে রামপুরার বিটিসিএল আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এবং বাড্ডার সিরাজ মিয়া মেমোরিয়াল মডেল স্কুল কেন্দ্রে। বয়োবৃদ্ধ থেকে শুরু করে প্রথমবারের ভোটার—সবার মধ্যেই ছিল এক ধরনের নাগরিক স্বস্তি ও উদ্দীপনা। ভোটারদের চোখেমুখে ছিল গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার তৃপ্তি।

সারাদেশে অভিন্ন চিত্র

কেবল রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমাদের প্রতিনিধিরা পাঠিয়েছেন উৎসবমুখর ভোটগ্রহণের খবর। খুলনার দাকোপ থেকে শুরু করে উত্তরের জনপদ পঞ্চগড় কিংবা পাহাড়ের জনপদ রাঙ্গামাটি—সবখানেই ভোটারদের উপস্থিতি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের সাক্ষী হচ্ছে ১২ কোটিরও বেশি ভোটার। এবারের নির্বাচনে কেবল সংসদ সদস্য নির্বাচনই নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ৮৪ দফা নিয়ে দেশের মানুষ তাদের রায় দিচ্ছে গণভোটের মাধ্যমে।

কড়া নিরাপত্তা ও বিশেষ ব্যবস্থা

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, ২৯৯টি আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ চলছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। এর মধ্যে ১ লাখেরও বেশি সেনা সদস্য মাঠে থেকে সাধারণ ভোটারদের সাহস যোগাচ্ছেন। বিশেষ নজরদারির জন্য আকাশপথে টহল দিচ্ছে ৫০০-এর বেশি ড্রোন, আর স্পর্শকাতর কেন্দ্রগুলোতে পুলিশ সদস্যদের শরীরে যুক্ত করা হয়েছে বডিওর্ন ক্যামেরা।

নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ:

* মোট ভোটার: ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি।
* প্রতিদ্বন্দ্বী দল: নিবন্ধিত ৫০টি রাজনৈতিক দল।
* প্রার্থী সংখ্যা: ২ হাজার ২৮ জন (দলীয় ১,৭৫৫ জন ও স্বতন্ত্র ২৭৩ জন)।
* ভোটকেন্দ্র: সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি।
* ভোটের সময়: সকাল ৭:৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪:৩০ মিনিট পর্যন্ত।

ঢাকা-১১ আসনের একটি কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ষাটোর্ধ্ব আমজাদ হোসেন বলেন, “অনেক বছর পর নিজের ভোটটা নিজে দিতে পারছি, এটাই বড় আনন্দ। আশা করি, যে-ই আসুক, দেশের শান্তি বজায় রাখবে।” তরুণ ভোটারদের মধ্যেও উচ্ছ্বাস ছিল ব্যাপক।

প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ফারহানা বলেন, “একটি সুন্দর এবং স্বচ্ছ নির্বাচনের প্রত্যাশা নিয়ে এসেছি। প্রযুক্তিনির্ভর এই স্মার্ট ব্যবস্থাপনায় আমরা আশাবাদী।”