জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের স্বাধীনতা পুরস্কার ঘোষণা করেছে সরকার। এ বছর মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হচ্ছেন বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
তাঁর পাশাপাশি বরেণ্য সংগীতশিল্পী বশির আহমেদ (মরণোত্তর) এবং জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেতসহ মোট ২০টি বিশিষ্ট নাম ও প্রতিষ্ঠান এই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানের জন্য চূড়ান্ত হয়েছে।
মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মনোনীতদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন। এবারের তালিকায় ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠান স্থান পেয়েছে, যারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে অনন্য উচ্চতা স্পর্শ করেছেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষা এবং নারী শিক্ষাসহ দেশ গঠনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সামগ্রিক অবদানের কথা বিবেচনা করে তাঁকে এ বছর মরণোত্তর এই সম্মাননা প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তাঁর রাজনৈতিক ত্যাগ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস এই স্বীকৃতির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নক্ষত্রদের পদচারণা
এবারের পুরস্কারের তালিকায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি বেশ উজ্জ্বল। অমর সংগীতশিল্পী বশির আহমেদকে তাঁর কালজয়ী গানের জন্য মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, সমাজ সংস্কার ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হিসেবে কয়েক দশক ধরে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা হানিফ সংকেতও এ বছর রাষ্ট্রের এই সর্বোচ্চ পদক পাচ্ছেন। তাঁর সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সামাজিক মূল্যবোধ বৃদ্ধিতে অনন্য ভূমিকা রাখায় সরকার তাঁকে এই সম্মানে ভূষিত করল।
পুরস্কারের তালিকায় স্থান পাওয়া অন্য ব্যক্তিদের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, জনসেবা এবং ক্রীড়া জগতের বিশিষ্টজনদের নাম রয়েছে। তবে চূড়ান্ত তালিকায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্তি প্রমাণ করে যে, ব্যক্তি প্রচেষ্টার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষকেও সরকার সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।
২০২৬ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারের মূল হাইলাইটস:
খালেদা জিয়া (মরণোত্তর): স্বাধীনতা, গণতন্ত্র পুনরুত্থান এবং নারী শিক্ষার প্রসারে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব: সংগীতের জন্য বশির আহমেদ (মরণোত্তর) এবং সমাজ বিনির্মাণে হানিফ সংকেত।
সংখ্যাগত পরিসংখ্যান: মোট ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান।
সভাপতিত্ব: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে তালিকাটি চূড়ান্ত করা হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ: খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে পদক প্রদানের তারিখ ও ভেন্যু ঘোষণা করবে বিভাগটি।
মূল্যায়নের নতুন দিগন্ত
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৬ সালের এই পুরস্কারের তালিকাটি রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক চমৎকার মেলবন্ধন। বেগম খালেদা জিয়ার মতো একজন বর্ষীয়ান নেত্রীকে মরণোত্তর এই সম্মাননা প্রদান করা জাতীয় রাজনীতির ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে থাকবে। একইভাবে বশির আহমেদ বা হানিফ সংকেতের মতো গুণীজনদের মূল্যায়ন দেশের শিল্প-সংস্কৃতির সমৃদ্ধিকে উৎসাহিত করবে।
সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, মনোনীত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এমন কিছু গবেষণা ও সেবামূলক সংস্থা রয়েছে যারা গত কয়েক বছরে জাতীয় সংকটে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। এই স্বীকৃতির ফলে দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন দেশপ্রেম ও সেবার আদর্শে আরও উদ্বুদ্ধ হবে বলে সরকার আশা প্রকাশ করছে।

