মানসিক সমস্যার কারণ হতে পারে 'দেহ ঘড়ি'


মানসিক সমস্যার কারণ হতে পারে 'দেহ ঘড়ি'

কথায় আছে, ‘মানুষ অভ্যাসের দাস’। এই অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করে মানুষকে। মানুষের রুচি, আচার-ব্যবহার, নিত্যদিনের কর্মকান্ড সবকিছুই এই অভ্যাসের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
তেমনি করে মানুষের শরীরের অভ্যন্তরে যা কিছু ঘটে, সব নিয়ন্ত্রিত হয় এই অভ্যাসের মাধ্যমে। বিজ্ঞানীরা এই দেহকে একটি ঘড়ির সাথে তুলনা করেন। যেই ঘড়ি কাজ করে নিয়ম মাফিক, এখানে কোনো ত্রুটি নেই। একই ছন্দে কাজ করে এই দেহ ঘড়ি। যেই ঘড়ি শরীরের যাবতীয় কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে সময়মতো। দেহঘড়ির এই ছন্দকে বলে সার্কেডিয়ান রিদম। মানুষের মনমেজাজ, হর্মোনের স্তর, শরীরের তাপমাত্রা, এবং দেহের বিপাক ক্রিয়া – এই সবকিছুর ওপরই এর প্রভাব ব্যাপক।
এক গবেষণায় বলা হচ্ছে, মানুষের ‘দেহ ঘড়ির’ ছন্দে কোন উল্টোপাল্টা হলেই তার ‘মুড ডিজঅর্ডার’ বা মেজাজ খারাপ হবার ঝুঁকি বেড়ে যায়। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোর গবেষকরা ৯১ হাজার লোকের ওপর এক জরিপ চালানোর পর বলছেন, বিষণ্ণতা, হঠাৎ ভীষণ রেগে যাওয়া, একাকীত্ব, অসুখী মনোভাব, আরো অনেক মানসিক সমস্যার সাথে মানবদেহের স্বাভাবিক ছন্দ বিঘ্নিত হবার সম্পর্ক আছে।
তবে দেহঘড়ির এই ছন্দ-বিভ্রাটই কি মানসিক রোগের কারণ, নাকি এটা তার লক্ষণ মাত্র? জরিপটিএ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে নি। এ জন্য আরো গবেষণা দরকার হবে। গবেষকরা বলছেন, কেউ যদি রাত জেগে বেশি কাজকর্ম করে বা সক্রিয় থাকে, বা দিনে নিষ্ক্রিয় থাকে তাদেরকেই দেহঘড়ির বিঘ্নের আওতায় ফেলা হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী দিনে জেগে থেকে কাজ কর্ম করতে হবে, আর রাতের ঘুমে বিশ্রাম দিতে হবে শরীরকে। এই হচ্ছে মানবদেহের স্বাভাবিক ছন্দ। মানবদেহের প্রতিটি কোষ, শারীরিক প্রক্রিয়া এবং স্নায়ুতন্ত্র এই নিয়ম মেনে কাজ করে, বলছেন বিজ্ঞানীরা।
বিবিসিকে গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং মনোবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল স্মিথ বলেন, ‘এই জরিপে দেহঘড়ির সমস্যায় আক্রান্ত এমন যারা অংশ নিয়েছেন ল তাদের কেউ কেউ হয়তো রাত জেগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেছেন, এটা হতে পারে।’
সামাজিক মাধ্যমগুলোর জন্য আজকাল রাত জাগার পরিমাণ বেড়ে গিয়েছে তরুণ সমাজের মাঝে। এদের মানসিক নানা সমস্যায় আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা স্বাভাবিক জীবনযাপনকারীদের চেয়ে ৬ থেকে ১০ শতাংশ বেশি।