প্রয়াত হলেন দুই বাংলার বিশিষ্ট জনপ্রিয় সাহিত্যিক দেবেশ রায়। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত পৌনে এগারোটা নাগাদ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। বাংলাদেশের পাবনা জেলায় জন্ম নিয়েছিলেন দেবেশ রায়।
প্রখ্যাত এই সাহিত্যিকের মৃত্যুতে দুই বাংলার সাহিত্য মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোক প্রকাশ করেছেন কবি জয় গোস্বামী, সুবোধ সরকারও সহ আরও অনেক বিশিষ্ট সাহিত্যিক।
প্রয়াত সাহিত্যিক এর পারিবারিক সূত্র থেকে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন লেখক। গত এক সপ্তাহ ধরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। বৃহস্পতিবার সকালে সে কারণে তাকে ভর্তি করা হয় কলকাতার অদূরে বাগুইআটির একটি বেসরকারি হাসপাতালে।
অধ্যাপনা দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু হলেও স্কুল জীবন থেকেই লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন দেবেশ রায়।
তার প্রথম প্রকাশিত বই ‘যযাতি’। ১৯৯০ সালে সাহিত্য একাডেমী পুরস্কার পান তিস্তাপারের বৃত্তান্ত এই উপন্যাসের জন্য।
এছাড়াও ‘মানুষ খুন করে কেন’, ‘বরিশালের যোগেন মন্ডল’, ‘সময়ে-অসময়ে বৃত্তান্ত’, ‘লগন গান্ধার’, ‘মফস্বলে বৃত্তান্ত’ উপন্যাসগুলোও দেবেশ রায়ের অনবদ্য সৃষ্টি।
ছোট গল্প লিখেছেন অনেক। এরমধ্যে স্মৃতিহীন বিরতিহীন, ছোটগল্প ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
দেবেশ রায়ের মৃত্যুতে শোক জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিশিষ্ট কবি জয় গোস্বামী তিনি বলেন, “দেবেশ দা ছিলেন পিতৃতুল্য। কিশোর এবং যৌবনের কবিদের বলা ভালো লেখকদের অনুপ্রেরণা যোগাতেন দেবেশ রায়”।
একইভাবে শোক প্রকাশ করতে গিয়ে বহুল স্মৃতির কথা জানান কবি সুবোধ সরকারও। তিনি বলেন, একই দিন আমরা বাংলা সাহিত্যের দুই নক্ষত্রের পতন দেখলাম। এপারে দেবেশ রায় আর ওপারে ডঃ আনিসুজ্জামান। বাংলা সাহিত্যের বড় ক্ষতি হলও এই দুই নক্ষত্র পতনে।

