বাংলা ভাষার ওয়েবসাইট তৈরি করেছে বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। বৃহস্পতিবার দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (সিডিএ) জোয়ান ওয়াগনার তাদের এই বাংলা ভাষার ওয়েবসাইট চালু করেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে মার্কিন দূতাবাস। যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের বাংলা ওয়েবসাইটটি www.bd.usembassy.gov/bn এই ওয়েব ঠিকানায় যেতে হবে।
বাংলা ওয়েবসাইটটি বাংলাদেশ এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সব বাংলাভাষীর জন্য নানা ধরনের বিষয়বস্তু পরিবেশন করবে। দূতাবাসকে বাংলাদেশিদের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যোগাযোগ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে প্রসারিত করতে সহায়তা করবে এই ওয়েবসাইট বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, মিডিয়া নোট, প্রেস বিবৃতি, সংবাদবিষয়ক অনুষ্ঠান, নিরাপত্তা ও জরুরি বার্তা, বক্তৃতা, মিডিয়া সাক্ষাৎকার এবং অন্যান্য বার্তা ইংরেজি এবং বাংলা উভয় ভাষায়ই পোস্ট করা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।
যাতে দুই ভাষার মানুষের জন্যই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতি, ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ভিসা এবং শিক্ষাগত ও পেশাগত এক্সচেঞ্জ কর্মসূচিসহ অনেক বিষয়ে তথ্য পাওয়া নিশ্চিত হয়, সেজন্য বাংলা ও ইংরেজি উভয় ওয়েবসাইটই নিয়মিত আপডেট করা হবে।
বৈঠকের কারণে বাংলাদেশের বাইরে থাকায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেননি বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার। তবে নতুন ওয়েবসাইট সম্পর্কে তিনি একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। এতে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রাক্কালে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের নতুন বাংলা ভাষার ওয়েবসাইটের উদ্বোধন ঘোষণা করতে পেরে আমি গর্বিত। আমরা আশা করি, এ অসাধারণ জাতি যে ভাষাটির মর্যাদা রক্ষার জন্য বীরত্বের সঙ্গে লড়েছে সেই বাংলা ভাষার নতুন ওয়েবসাইট বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি করবে।
বাংলা ওয়েবসাইটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিডিএ ওয়াগনার বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বাংলাদেশে এবং বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশিদের হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। বাংলাদেশের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনই জাতিসংঘকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস প্রবর্তনে উৎসাহিত করে। অতীতে সংঘটিত এই ঐতিহাসিক বাংলাভাষা আন্দোলনকে শ্রদ্ধা জানাতে দূতাবাসের পক্ষে এর নতুন বাংলা ওয়েবসাইট উদ্বোধন করা আমার জন্য সম্মান এবং আনন্দের।
তিনি বলেন, ওয়েবসাইটটি বাংলাদেশ এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাভাষীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক, ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ, ভিসাবিষয়ক তথ্য, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক পরিষেবা, যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়ন, সাংস্কৃতিক, শিক্ষামূলক এবং পেশাগত এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামসহ অনেক কিছু সম্পর্কে পড়া ও আলোচনার সুযোগ করে দেবে।

