মুক্তির যে দুটি শর্ত মানতে হবে বেগম খালেদা জিয়াকে


khaleda zia #paperslife

সাজা স্থগিত রেখে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১(১) ধারায় ৬ মাসের জন্য মুক্তির পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দুটি শর্ত মানতে হবে বলে জানা গেছে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‌প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১(১) ধারায় খালেদা জিয়ার সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত রাখা হবে।

খালেদা জিয়াকে দেয়া সরকারের দুটি শর্তের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত থাকাবস্থায় তাকে ঢাকাস্থ নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। তবে চিকিৎসার প্রয়োজনে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) যেতে পারবেন।

এছাড়া দণ্ড স্থগিত থাকাকালীন খালেদা জিয়া চিকিৎসা বা অন্য কোনও প্রয়োজনে দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১(১) ধারায় বলা আছে, ‘কোনও ব্যক্তি কোনও অপরাধের জন্য দণ্ডিত হলে সরকার যেকোনও সময় বিনা শর্তে বা দণ্ডিত ব্যক্তি যা মেনে নেয় সেই শর্তে তার দণ্ড কার্যকর রাখা স্থগিত রাখতে বা সম্পূর্ণ দণ্ড বা দণ্ডের অংশ বিশেষ মওকুফ করতে পারবেন।’

এদিকে দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান জানিয়েছেন, সরকার যে ধারায় খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করেছেন সেখানে দুটি শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। তাই তিনি চাইলেই দণ্ড স্থগিত থাকা অন্যান্য আসামির মতো চলাচল করতে পারবেন না। সরকারের বেঁধে দেয়া দুটি শর্তের মধ্যেই তার সবকিছু সীমাবদ্ধ থাকবে।

খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, সাজা স্থগিত থাকাবস্থায় পুলিশি নিরাপত্তার কোনও বিধান আইনে নেই। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে তার (খালেদা জিয়া) জন্য পুলিশি নিরাপত্তা রাখা হবে।

৪০১ ধারার ২ উপধারা অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে ৬ মাসের জন্য মুক্তি দেয়ার বিষয়টি আদালতকে জানাবে সরকার।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার ১ উপধারায় আসামিদের দণ্ড স্থগিতের বিষয়ে সরকারকে ক্ষমতা দেওয়া হলেও পরবর্তী প্রক্রিয়াগুলো একই ধারার ২, ৩, ৪, ৪ (ক), ৫, ৫ (ক) এবং ৬ উপধারায় বর্ণিত হয়েছে।

এর মধ্যে ৪০১ ধারার ২ উপধারায় বলা হয়েছে, যখন কোনও দণ্ড স্থগিত রাখা বা মওকুফ করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা হয় তখন যে আদালত ওই দণ্ড দিয়েছিলেন বা অনুমোদন করেছিলেন সেই আদালতের প্রিজাইডিং জজকে সরকার ওই আবেদন মঞ্জুর করা কিংবা মঞ্জুর করতে অস্বীকার করা উচিত কিনা, সে সম্পর্কে তার মতামত ও মতামতের কারণ বিবৃত করতে এবং এই বিবৃতির সঙ্গে বিচারের নথির নকল অথবা যে নথি বর্তমানে আছে সেই নথির নকল পাঠানোর নির্দেশ দেবেন।