‘ডাইং ডিক্লারেশন’ বা মৃত্যুশয্যায় দেওয়া বক্তব্যে ফেনীর সোনাগাজীর অগ্নিদগ্ধ মাদ্রাসা ছাত্রী বলেছেন, ‘নেকাব, বোরকা, হাতমোজা পরিহিত চারজন যে ৪ জন তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় তাদের একজনের নাম শম্পা।’
উল্লেখ্য, পরবর্তী সময়ে আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে উপস্থাপনের জন্য মুমূর্ষু রোগীদের কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য তথা ‘ডাইং ডিক্লারেশ’ নেওয়া হয়ে থাকে।
জানা গেছে, দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে ওই ছাত্রী একজন চিকিৎসকের কাছে এ বক্তব্য দেন।
বক্তব্যে ছাত্রী বলেন, কেন্দ্রে ঢোকার পর একটা সময় তাকে ছাদে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি নেকাব বোরকা হাত মোজা পরিহিত চারজনকে দেখতে পান। তাঁদের মধ্যে মূলত কথা বলছিলেন একজন। তিনি মামলা প্রত্যাহার করে নিতে বলেন এবং অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ অসত্য এ কথা বলতে চাপ দেন। মাদ্রাসা ছাত্রী এতে অস্বীকৃতি জানালে ওই চারজন ওড়না দিয়ে তার হাত বেঁধে ফেলেন। তার গায়ে ওরা কিছু একটা ছুড়ে দেয়। তারপর বলে, ‘যা এবার পালা।’ গায়ে আগুন লাগা অবস্থাতেই তিনি দৌঁড়ে পালান।
চারজনের কেউ কারও নাম উচ্চারণ না করলেও কোনো এক পর্যায়ে একজন শম্পা বলে একজনকে ডাকেন। তিনি যে কণ্ঠ শুনেছেন, তা নারীকণ্ঠ। তবে মুখ ঢাকা থাকায় কাউকে চিনতে পারেননি বলে জানিয়েছেন। অগ্নিদগ্ধ ওই ছাত্রী বলেন, ওড়নাটা ছাই হয়ে যাওয়ার পর হাতের বাঁধন খুলে যায়।
জানা গেছে, গত ২৭ মার্চ তাঁর সঙ্গে অধ্যক্ষ অশোভন আচরণ করেন। এ বিষয়টি ওই শিক্ষার্থী পরিবারকে জানান, মাদ্রাসার অন্য শিক্ষার্থীদেরও জানান। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর থেকে তিনি ভাইয়ের সঙ্গে মাদ্রাসায় যাচ্ছিলেন। ঘটনার দিন তাঁর ভাইকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
ছাত্রী জানান, কয়েক বছর ধরে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি করে আসছেন। তিনি পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র দিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখাতেন। তার কথায় রাজি না হলে তিনি হেনস্থা করতেন।

