উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে গ্রেফতারে কলকাঠি নেড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মুলত যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধেই গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাজ্য।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার বন্দি বিনিময় চুক্তি অনুসারে অ্যাসাঞ্জকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গোপন তথ্য ফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্ত তিনি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, অ্যাসাঞ্জ ২০১০ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেট ইন্টারনেট প্রটোকল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত পররাষ্ট্র দপ্তরের কম্পিউটারে সংরক্ষিত পাসওয়ার্ড বের করতে চেলসি ম্যানিংয়ের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করেছিলেন।
দোষী সাব্যস্ত হলে অ্যাসাঞ্জের পাঁচ বছরের সাজা হতে পারে বলে জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের বিবৃতিতে বলা হয়েছে। যুক্তরাজ্য থেকে তাকে হস্তান্তরের বিষয়টি পররাষ্ট্র দপ্তর দেখছে বলে জানিয়েছে তারা।
উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক অ্যাসাঞ্জ ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ সামরিক ও কূটনৈতিক গোপন নথি ফাঁস করে দিয়ে বিশ্বজুড়ে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিলেন। আফগান ও ইরাক যুদ্ধ নিয়ে তার প্রকাশ করা নথিতে চরম বেকায়দায় পড়েছিল যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও পেন্টাগন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের কর্তাদের রোষানলে পড়া অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের মামলা হয় সুইডেনে। গ্রেপ্তার এড়াতে ২০১২ সালে অ্যাসাঞ্জ লন্ডনে একুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয় নেন। তারপর থেকে তিনি সেখানেই ছিলেন।
সুইডেনের সেই মামলার কার্যক্রম বন্ধ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের হাতে পড়ার ভয়েই এই দূতাবাস ছাড়ছিলেন না অ্যাসাঞ্জ। এর মধ্যে একুয়েডর সরকার তার ‘রাজনৈতিক আশ্রয়’ বাতিল করায় বৃহস্পতিবার সকালে দূতাবাসে গিয়ে ৪৭ বছর বয়সী অ্যাসাঞ্জকে ধরে নিয়ে আসে লন্ডন পুলিশ।
আদালতে হাজির না হওয়ার অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে ওই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন অ্যাসাঞ্জ। এরজন্য তার এক বছরের সাজা হতে পারে। তবে ওই সাজা ঘোষণা হবে আগামী মাসে।

