ফুল ঈশ্বরের এক অপার সৃষ্টি। ফুল যেমন সুন্দর তেমনি তার মধুর ঘ্রাণে আমাদের সবসময় অন্যরকম অনুভূতি এনে দিতে পারে।
আপনার প্রিয়জনের কখনো যদি মন খারাপ দেখেন, তাহলে দেরি না করে তাকে একটি ফুল উপহার দিন। দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যে তার মন ভালো হয়ে যাবে।
এছাড়াও, ফুলের ওপর প্রজাপতির উড়ে বেড়ানোর মতো দৃশ্যগুলো কীভাবে যেন আমাদের বিষণ্ন মনের জন্য প্রতিষেধক রুপে কাজ করে।
এই ফুল যতটা ভালো কিছু আছে, আবার যেগুলো আমাদের জন্য খুব বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
এমন কিছু বিপজ্জনক ফুল নিয়ে আজকে আমরা বলবো, যার বাহ্যিক রুপ আপনাকে ঠিকই মুগ্ধ করে রাখে।
১) ধুতুরা
বাড়ির আশেপাশে যদি এই ফুলগাছ থাকে, অতি দ্রুত গাছগুলো কেটে ফেলেন। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের এই ফুল বিষয়ে বলুন কারণ এটি খুবই বিষাক্ত।
২) মিস্লটো
পরিচিত এই ফুলটির জনপ্রিয়তার বেশ । একে ভালোবাসার প্রতীক রুপে গণ্য করা হয়ে থাকে। সত্যিকারের ভালোবাসার মানুষকে প্রথমবার চুম্বনের সময় পাশ্চাত্য দেশগুলোতে এই গাছের নিচে দাঁড়িয়ে সেটি করার একটি প্রবণতা দেখা যায়।
কিন্তু ভুলবশত ফুলটির কোনো অংশ পেটে চলে গেলে সাথে সাথেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। বমি বমি ভাব, ঝাপসা দৃষ্টি এবং ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
তবে অধিক পরিমাণে ফুলের অংশ পেটে গেলে সে ক্ষেত্রে জীবন নিয়েই টানাটানি পড়তে পারে। আগেকারদিনে স্ক্যান্ডিনেভিয়ানরা একে শান্তির বৃক্ষ হিসেবে মনে করতো এবং এর নিচেই বিভিন্ন শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করতো।
৩) ওলিয়েন্ডার (করবী)
করবী ফুল গিলে ফেললে এর প্রভাবে আপনার হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, একই ফুলের নির্যাস আবার হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রতিরোধেও কাজে লাগানো হয়।
কোন কারণে ফুলটি গিলে ফেললে এর ফলে পাকস্থলীতে প্রদাহ, চামড়ায় ছোট ছোট লাল ফুসকুড়ি ওঠা, ভারসাম্যহীন অনুভব করা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, অনিয়মিত হৃদস্পন্দনসহ আরো বহুবিধ সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে থাকা বিষাক্ত উপাদানগুলোর মাঝে রয়েছে ডিজিটক্সিজেনিন, নেরীন, ওলিয়েন্ড্রিন ও এলিওন্ড্রোসাইড।
৪) উইস্টেরিয়া
গোলাপী, রক্তবর্ণ, সাদা কিংবা নীল রঙের হয়ে থাকে এই ফুলগুলো। এদের উৎপত্তি চীন, কোরিয়া ও জাপানে এবুং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলে পাওয়া যায়। তবে, একবার পেটে গেলে বমি, ডায়রিয়া, তলপেটে ব্যথাসহ কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই দৃষ্টিনন্দন এ গাছগুলো বাড়িতে লাগানোর পূর্বে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
৫) অ্যাঞ্জেলস ট্রাম্পেট
পেন্ডুলামের ন্যায় ঝুলে থাকা এই ফুলগুলোকে দেখলে ভদ্র-শান্তশিষ্ট কোন প্রতিকৃতিই মনে ভেসে উঠতে পারে। কিন্তু, পেটে গেলে চিত্তবিভ্রম, হ্যালুসিনেশন, ডায়রিয়া, বমি, চোখের মণিতে সমস্যা, প্যারালাইসিস, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
৬) ফক্সগ্লোভস
এই ফুলের উৎপত্তি ইউরোপ ও এশিয়া মহাদেশে। এই গাছে রয়েছে গ্লাইকোসাইড, ডিজিটক্সিন ও ডেস্লানোসাইড, যার প্রতিটিই হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।
৭) আজালিয়া
আজালিয়ায় থাকা বিষাক্ত গ্রায়ানোটক্সিন আপনার কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করে কোমায় পাঠিয়ে দিতে পারে আপনাকে। আর বেশি গ্রহণ করলে তো সরাসরি পরপারেই পাঠিয়ে দেবে।
৮) বেলাডোনা
বেলাডোনা ইউরোপ, দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া এবং উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকাতেই মূলত ফুলটি জন্মে থাকে। গাছটির আগাগোড়াই বিষাক্ত। যদি ভুলেও এর বিচি আপনার পেটে চলে যায়, তবে তীব্র পানি পিপাসা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, চোখের মণির প্রসারণ, চামড়ায় লালচে ফুসকুড়ি ওঠাসহ সংজ্ঞাহীন অবস্থা দেখা দিতে পারে। আবার অনৈচ্ছিক পেশীসমূহের সাথে যুক্ত স্নায়ুপ্রান্তকেও এটা অবশ করে দিতে পারে।
৯) পয়জন ও ওয়াটার হেমলক
উৎপত্তি মূলত ইউরোপ ও আফ্রিকায়। এটি এতটাই ভয়ানক যে, শখের বশে কেবলমাত্র গন্ধ শোঁকাও আপনার মৃত্যুর কারণ হতে পারে! পয়জন হেমলক শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ করে একজন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটাতে পারে।
বিখ্যাত দার্শনিক সক্রেটিসের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে পয়জন হেমলকই ব্যবহার করা হয়েছিল।
ওয়াটার হেমলক তো পয়জন হেমলকের চাইতেও বেশি বিষাক্ত। একে উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে বিষাক্ত গাছও বলা হয়ে থাকে।

