রাঙামাটিতে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় নিহত ৭


paperslife

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় ভোটগ্রহণের দায়িত্ব পালনকারীদের উপর সশস্ত্র হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন।

সোমবার দেশের বিভিন্ন স্থানের ১১৫টি উপজেলার সঙ্গে বাঘাইছড়ি উপজেলায়ও ভোটগ্রহণ হয়। তবে জেএসএস সমর্থিত প্রার্থীদের বর্জনের কারণে সেখানে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।

মধ্যেই ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যায় সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম কংলাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাচালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাঘাইহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে ফেরার পথে নির্বাচনকর্মীদের উপর সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা হামলা চালায় বলে পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বাঘাইছড়ি থানার ওসি মঞ্জুরুল আলম জানান, বাঘাইছড়ি-দিঘিনালা সড়কের নয় মাইল এলাকায় নির্বাচন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বহনকারী চাঁদের গাড়িগুলোর উপর হামলা হয়।

এ বিষয়ে ইসির যুগ্ম-সচিব (জনসংযোগ) এস এম আসাদুজ্জামান এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, দ্বিতীয় ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দায়িত্বরত অবস্থায় বাঘাইছড়ি উপজেলায় দুর্বৃত্তদের হামলায় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও আনসার সদস্যসহ ৬ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া কয়েকজন আহত হয়েছেন।

তার কিছুক্ষণ পর রাত পৌনে ১১টার দিকে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদিম সারওয়ার চট্টগ্রামের হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও একজনের মৃত্যুর খবর জানান।

পাহাড়ে বিবাদমান পক্ষগুলোর একটি জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-এমএন লারমা) এই হামলার জন্য জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতিকে (জেএসএস) দায়ী করেছে। তবে এতে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন সন্তু লারমার দলের নেতারা।

কয়েক বছর আগে সন্তু লারমার দল থেকে আলাদা হওয়া জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) নেতা সাবেক চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমা বাঘাইছড়িতে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছিলেন এবারও।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ জাতীয় দলগুলোর কোনো প্রার্থী না থাকার মধ্যে সুদর্শনকে জেতাতে কারচুপির ষড়যন্ত্র হচ্ছে দাবি করে সকালে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন জেএসএস সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বিদায়ী চেয়ারম্যান বড়ঋষি চাকমা।

পাহাড়িদের সবচেয়ে বড় সংগঠন জেএসএসের ভোট বর্জনের মধ্যে দিনভর ভোটগ্রহণে শেষে ঘটে হামলার ঘটনা।

ইউএনও নাদিম সারোয়ার বলেন, কংলাক বিদ্যালয়, মাচালং বিদ্যালয় ও বাঘাইহাট বিদ্যালয় কেন্দ্রে ফল দেওয়ার পর ভোটের সরঞ্জাম নিয়ে ফেরার পথে নয় মাইল এলাকায় হামলা হয়।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, তিনটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, পোলিং কর্মকর্তা, পুলিশ এবং আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা বিজিবি পাহারায় তিনটি চাঁদের গাড়িতে করে দীঘিনালা ফিরছিলেন।

এসময় সংঘবদ্ধ দৃর্বৃত্তরা ‘ব্রাশফায়ার’ করলে দ্বিতীয় গাড়িটি আক্রান্ত হয়। এসময় চালক গাড়ি না থামিয়ে দ্রুতগতিতে গাড়িটি চালিয়ে বাঘাইছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে গাড়ি থেকে নামানোর পর একে একে মারা যান ছয়জন।

তিনি বলেন, নিহতরা হলেন আমির হোসেন, আবু তৈয়ব, মন্টু চাকমা, মিহির কান্তি দত্ত, আল আমিন, বিলকিস আক্তার ও জাহানারা বেগম।

আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রাম পাঠানো হয় বলে জানান তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলায় সাতজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি ১১ জন আহত হয়েছেন।