চীনভিত্তিক টেলিকম সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে টেকনোলজিস লিমিটেডের রাজস্ব ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১০ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। গতকাল প্রকাশিত তাদের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
হুয়াওয়ের আর্থিক প্রতিবেদনে, গত বছর তাদের মোট বিক্রি ৭২ হাজার ১২০ কোটি ইউয়ানে (১০ হাজার ৭১৩ কোটি ডলার) পৌঁছেছে। ২০১৭ সালের তুলনায় নিট মুনাফা ২৫ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৯৩০ কোটি ইউয়ানে (৮৭০ কোটি ডলার) পৌঁছেছে। ২০১৮ সালে এক বছর আগের চেয়ে দ্রুত রাজস্ব প্রবৃদ্ধির মুখ দেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।
নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক চাপে রয়েছে হুয়াওয়ে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই এর নেটওয়ার্ক সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে আসছে। দেশটির দাবি, হুয়াওয়ের সরঞ্জামের মাধ্যমে মার্কিনদের তথ্য সরাসরি চীন সরকারের হাতে চলে যাচ্ছে। এসব তথ্য নজরদারির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। যে কারণে ফাইভজি নেটওয়ার্ক অবকাঠামো নির্মাণে হুয়াওয়ের পণ্য বর্জন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
হুয়াওয়ে তাদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগকে বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, কোনো ধরনের গুপ্তচরবৃত্তির সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা নেই। এমনকি চীন সরকারের বিশেষ অনুরোধ এলেও তারা গ্রাহক তথ্য সরবরাহ করবে না বলে জানিয়েছে। রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেও বৈশ্বিক হ্যান্ডসেট বাজারে ভালো পারফরম্যান্সের জন্য হুয়াওয়ের মুনাফা বেড়েছে।
হুয়াওয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, নিরাপত্তা ইস্যুর কারণে গত কয়েক মাস হুয়াওয়ের জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। হুয়াওয়ে এরই মধ্যে নিশ্চিত করেছে যে তারা কোন রকমের গ্রাহক তথ্য পাচার করেনি, করবেও না এবং কোনো তৃতীয় পক্ষকেও তাদের সরঞ্জাম ব্যবহার করে, এমন কাজের অনুমতি দেবে না।
তিনি আরও বলেন যে,বর্তমানে হুয়াওয়ে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে দ্রুতগতিতে যেকোনো ক্যারিয়ারে শক্তিশালী, ফাইভজি নেটওয়ার্ক স্থাপন করতে সক্ষম। হুয়াওয়ে ফাইভজি নেটওয়ার্ক প্রযুক্তিতে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে উদ্ভাবন কোনো কাজে আসবে না বলেও জানান তিনি।

