কখনো দুধের কার্টনে উপাদান মিশিয়ে ‘মিল্ক কার্টন ফ্লান’ তৈরি করছেন আবার কখনো কাঁচা ভুট্টা কাগজের প্যাকেটে রেখে গরম করে বানাচ্ছেন পপকর্ন। এসব ভিডিওকে বলা হয় লাইফ হ্যাক। শুধু ফ্লান বা পপকর্নই নয় এমন হাজার হাজার সহজ রান্নার ভিডিও আছে ইউটিউবে। লাখ লাখ দর্শক তা দেখেন, পছন্দ করেন, শেয়ার করেন। কিন্তু আদৌ কি এসব খাবার তৈরি করা যায়?
সম্প্রতি বিবিসির টেকনোলজি রিপোর্টার ক্রিস ফক্স এ ধরনের ভিডিও নিয়ে একটি অনুসন্ধান চালিয়েছেন। ভিডিও দেখানো পদ্ধতি অনুসরণ করে খাবার তৈরির চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তিনি ব্যর্থ হয়েছে।
রিপোর্টার ক্রিস ফক্স হুবহু একটার পর একটা ধাপ অনুসরণ করেন। একটি কার্টনে দুধের সঙ্গে ডিম ও মার্শম্যালো মিশিয়ে ওভেনে ঢুকাতে গিয়ে দেখা গেল বিপত্তি- কার্টনটির উচ্চতা ওভেনের ডোরের চেয়ে বেশি। ফলে সেটি ভেতরে নেয়া সম্ভব হলো না। যদিও ভিডিওতে দেখানো প্যাকেটটিই নিয়েছিলেন। ভিডিওটি খুঁটিয়ে দেখতে গিয়ে চোখে পড়লো, কার্টনটি গোড়ার দিকে কাটা। যাই হোক, ফক্স একটি কাপে মিশ্রণটি ঢেলে ওভেনে ১০ মিনিট গরম করলেন। ঠান্ডা করার পর যা তৈরি হলো সেটি ভিডিওতে দেখানো মোলায়েম ‘মিল্ক কার্টন ফ্লান’ এর ধারেকাছেও যায়নি।
ওভেনে কাঁচা ভুট্টা থেকে পপকর্ন তৈরির একটি ভিডিওর ক্ষেত্রেও এরকম প্রতারণার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এটি দেখিয়েছে জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল ৫- মিনিট ক্র্যাফ্টস। একটা কাগজের ব্যাগে ভুট্টা নিয়ে মাইক্রোওয়েভ ওভেনে গরম করলেই পাওয়া যায় পপকর্ন। এমন দৃশ্যই ভিডিওতে দেখানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে ভুট্টাটি গরম হওয়ার ছাড়াই কিছুই হয় না।
ইয়ামি চ্যানেলে ‘ গামি বিয়ার হেকস’ মিষ্টান্ন তৈরি, এটি ৩২ লাখবার দেখা হয়েছে। এখানে গামি বিয়ারকে জেলিতে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এটি মিষ্টান্ন হিসেবে দারুণ। এবারো হুবহু ভিডিওর অনুসরণ করেও দেখা গেল সেটি মোটেও জেলির মতো হলো না, বরং ঘন ও চিটচিটে একটি অখাদ্য পাওয়া গেল! অধচ ভিডিওতে দেখানো হয়েছে জেলির মতো বস্তুটিকে পাত্র থেকে গ্লাসে ঢেলে চামচ গামি কেটে তোলা হচ্ছে বিয়ারের জেলি।
এসব চ্যানেলের ধোঁকার বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছেন খাদ্য বিশেষজ্ঞ অ্যান রেয়ারডন। তিনিও সো ইয়ামির দেখানো রেসিপি অনুসরণ করে স্ট্রবেরি আইসক্রিম দিয়ে কেকের ক্রিম বানানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে সেটি অসম্ভব।
অ্যান বলেন, এগুলো যে কেবল মিথ্যা তা নয়। মাঝেমধ্যে তা স্বাস্থ্যের জন্যও বেশ ঝুকিপূর্ণ। ৫- মিনিট ক্র্যাফ্টসে একটি রঙিন স্ট্রবেরিকে সাদা বানাতে ব্লিচ করা হয় । যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বাচ্চারা দেখলে এটা খেতে চাইতে পারে।
আসল কথা হলো, এসব রান্নাবান্নার সম্পূর্ণ ভিডিও দেখানো হয় না। এর পেছনে আরো অনেক গল্প থাকে, যা চ্যানেলগুলো এড়িয়ে যায়। এছাড়া ভিউ বাড়ানোর জন্য অনেকে মিথ্যা গল্প সাজায়, ভুয়া দৃশ্য বানায়।

