শিশুকেন্দ্রে থাকা কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা


pregnant teenager

গত বছরের ১৭ মার্চের ঘটনা। রাজধানীর কাফরুল এলাকায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়া এক কিশোরী (১৬) পালিয়ে যায় কথিত প্রেমিকের সঙ্গে। এরপর কিশোরীর বাবা আদালতে ওই যুবকের (২৬) বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করেন। মামলার পর ১ এপ্রিল আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে কাফরুল থানা-পুলিশ। কিশোরীকেও উদ্ধার করে হাজির করা হয় আদালতে।

গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্তি পান আসামি। এদিকে মা-বাবার কাছে যেতে না চাওয়ায় আদালতের নির্দেশে কিশোরী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখা হয় কিশোরীকে। তবে কিশোরীর পরিবার বলছে সে সময় তার মেয়ের নিরাপত্তার কথা ভেবে নিরাপত্তামূলক হেফাজতে রাখা হয়।

কাফরুল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিল্লুর রহমান কিশোরীর কথিত প্রেমিক ওই আসামির বিরুদ্ধে গত বছরের ৩১ মে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ঘটনার সময় কিশোরীর বয়স ছিল ১৬ বছর ৭ মাস ১৫ দিন। আসামির সঙ্গে তার বিয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এরপর গত বছরের ১৬ অক্টোবর ওই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

গত বছরের ১৬ এপ্রিল থেকে অপহরণ মামলায় ভুক্তভোগী এই কিশোরী গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালিকা) অবস্থান করছে। কেন্দ্রে থাকা অবস্থায় ওই কিশোরী ২৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। ঢাকার আদালতকে প্রতিবেদন দিয়ে এ কথা জানিয়েছেন ওই শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল্লাহ আল সামী।

আজ সোমবার শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে থাকা অবস্থায় কীভাবে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হলো, তা তদন্ত করে সমাজসেবা অধিদপ্তরকে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪।

এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি আদালতে জমা দেওয়া শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই কিশোরী গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আসে গত বছরের ১৬ এপ্রিল। সম্প্রতি ভুক্তভোগী কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন ধরা পড়ে। গত ১২ জানুয়ারি প্রাথমিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা। পরে কিশোরীকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আল্ট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, সে ২৭ সপ্তাহ এক দিনের অন্তঃসত্ত্বা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরী জানিয়েছে- ‘গত বছরের ২৫ জুলাই গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে বাসে করে ঢাকার আদালতে হাজিরা দিতে আসে সে। তার সঙ্গে ছিলো একজন পুলিশ ও একজন নারী সদস্য। হাজিরা দিয়ে পাশের একটি রেস্টুরেন্টে সে খেতে যায়। সেখানে দেখা হয় কিশোরীর বাবার করা অপহরণ মামলার আসামির সঙ্গে। যদিও সেই আসামিকে প্রেমিক বলে দাবি করে ওই কিশোরী। তারপর পুলিশকে ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে প্রেমিকের সঙ্গে নির্মাণাধীন খালি রুমে কথা বলে। একপর্যায়ে সেখানে প্রেমিকের সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্ক হয়। বিষয়টি সে গোপন রেখেছিলো।

৭ ফেব্রুয়ারি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ায় কিশোরীর বাবা জড়িতদের বিচার চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন করেছেন।