শেখ হাসিনা মামলায় ফোনালাপ প্রকাশ: বিচারে নতুন মোড়


"গবেষণা ছাড়া আসলে উৎকর্ষ সাধন সম্ভব নয়"

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অর্ধশতাধিক সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়েছে। এই মামলায় শহীদ আবু সাঈদের পিতা ও অন্যান্য স্বজনহারা পরিবারের সদস্যরা সাক্ষ্য দিয়েছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও আন্দোলনের নেতা নাহিদ ইসলাম ও দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমানও সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।

আগামীকাল, বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলার স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিং অফিসার ৫২তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেবেন। প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম এক ভিডিও বার্তায় জানান, “স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিং অফিসার শেখ হাসিনার বেশ কয়েকটি ফোনালাপ জব্দ করেছেন, যা ট্রাইব্যুনালে বাজিয়ে শোনানো হবে। ট্রাইব্যুনালের অনুমতি পেলে তাঁর জবানবন্দি ওয়েবসাইট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সম্প্রচার করা হবে।”

মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী তামিম শুনানি করছেন। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন, এবং রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে যায়েদ বিন আমজাদ আইনজীবীত্ব করছেন। গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন, এবং মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এ ছাড়াও দুটি মামলা রয়েছে—একটি আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনে গুম-খুনের, অন্যটি মতিঝিল শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের। গত বছরের আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অংশ গণহত্যার অভিযোগে দায়ী করা হয়েছে। দুটি ট্রাইব্যুনালে এসব বিচার চলমান রয়েছে।