সাগরে ভাসমান ৫০০ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে জাতিসংঘের অনুরোধ


bdnews24 bangla newspaper, bangladesh news 24, bangla newspaper prothom alo, bd news live, indian bangla newspaper, bd news live today, bbc bangla news, bangla breaking news 24, prosenjit bangla movie, jeeter bangla movie, songsar bangla movie, bengali full movie, bengali movies 2019, messi vs ronaldo, lionel messi stats, messi goals, messi net worth, messi height

মানবিক কারণে আরও ৫ শতাধিক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিতে অনুরোধ করেছে জাতিসংঘ। মানব পাচারকারীদের প্রলোভনের ফাঁদে পা দিয়ে এই রোহিঙ্গারা বেশ কিছুদিন আগে মালয়েশিয়ার পথে দুটি ট্রলারে যাত্রা করে। মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ এদের দেশটিতে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় নিরুপায় হয়ে এরা সাগরে ভাসছে।

গভীর সমুদ্রে দুটি ট্রলারে ভাসমান বিভিন্ন বয়সের রোহিঙ্গাদের নিতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল বাশলেতে গতকাল শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনকে লেখা চিঠিতে এ আহ্বান জানান।

জাতিসংঘের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচও শনিবার এক বিবৃতিতে সাগরে ভাসা পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে বাংলাদেশকে অনুরোধ জানিয়েছে।

কূটনৈতিক ও কক্সবাজারের স্থানীয় সূত্রগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের বহনকারী ট্রলার দুটি গত বুধবার বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাধার মুখে তা আর বাংলাদেশের জলসীমায় আসতে পারেনি। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী ট্রলার দুটি বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিনের কাছে মিয়ানমারের জলসীমার সিতার পাহাড়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

অবশ্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল শুক্রবার গণমাধ্যমকে বলেছেন, দুটি নৌকায় প্রায় পাঁচ শ’ রোহিঙ্গা বঙ্গোপসাগর ও আন্দামানে ভাসছে। মালয়েশিয়া সরকার তাদের নেয়নি। ফলে এখন তারা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে। এদের গ্রহণ করার কোনো দায়বদ্ধতা বাংলাদেশের নেই।

তার মতে, তাদের সাহায্যের জন্য অন্য দেশও এগিয়ে আসতে পারে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, এ অঞ্চলে অনেক দেশ আছে, শুধু বাংলাদেশের কাছে এদের নেওয়ার অনুরোধ আসে কেন?

আব্দুল মোমেন বলেন, সাগরে ভাসমান রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জলসীমায় নেই। গভীর সমুদ্রে রয়েছে। এক সপ্তাহ আগে চার শতাধিক রোহিঙ্গা নৌকা করে মালয়েশিয়া যেতে ব্যর্থ হয়ে ফিরলে বাংলাদেশ তাদের গ্রহণ করেছে।

গত শুক্রবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার সম্প্রতি কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া শ চারেক রোহিঙ্গার প্রসঙ্গটিও উল্লেখ করেন। প্রায় দুই মাস সাগরে ভাসার পর তারা কক্সবাজারে নামে ট্রলার থেকে। ৭০ জনের বেশি মারা যায়। মূলত তাদের গন্তব্য ছিল মালয়েশিয়া। তবে মালয়েশিয়া সরকার সে দেশে তাদের প্রবেশে বাধা দিলে কক্সবাজারে ফিরে আসা ছাড়া ওই রোহিঙ্গাদের সামনে কোনো বিকল্প ছিল না।

মিশেল বাশলেতে লিখেছেন, কয়েকটি ট্রলারে পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গা নারী-শিশু-পুরুষ এখন সাগরে ভাসছে। বেশ কিছুদিন ধরে সাগরে ভাসা এসব রোহিঙ্গাকে জরুরি ভিত্তিতে খাবার, ওষুধ ও মানবিক সহায়তা দিয়ে আশ্রয় দেওয়া প্রয়োজন।

রমজানের শুরুতে মানবিক বিপর্যয় রোধের স্বার্থে তিনি মন্ত্রীকে বাংলাদেশের বন্দর খুলে দিয়ে সাগরে ভাসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের অবারিতভাবে আশ্রয় দিয়ে গর্ব করার মতো একটা অবস্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ।