সাবরিনার ব্যবহৃত মোবাইল সিমের নিবন্ধনটিও তার নামে নয়!


bdnews24 bangla newspaper, bangladesh news 24, bangla newspaper prothom alo, bd news live, indian bangla newspaper, bd news live today, bbc bangla news, bangla breaking news 24

দেশে চলমান করনা সংক্রমণে জেকেজি হেলথকেয়ারের এই ভাইরাস শনাক্ত পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায় গ্রেফতার জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের চিকিৎসক ডা. সাবরিনা শারমিন হুসাইন ওরফে সাবরিনা আরিফ চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে তারই এক রোগীর নামে নিবন্ধিত একটি মোবাইল সিম ব্যবহার করে আসছেন।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করে আসা ডা. সাবরিনা জেকেজি হেলথকেয়ারের প্রধান নির্বাহী আরিফুল হক চৌধুরীর স্ত্রী। সে কারণে সাবরিনা আরিফ চৌধুরী নামেই তিনি পরিচিত।

এ ব্যপারে সাবরিনার দাবি, ওই সিম কার নামে নিবন্ধিত তা তিনি জানতেন না। তবে পুলিশ বলছে, এটা বড় ধরনের অপরাধ, কারণ ওই সিম ব্যবহার করে কোনো অপরাধ করেও তিনি সহজেই পার পেয়ে যেতে পারেন।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে সাবরিনাকে হাসপাতাল থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তেজগাঁও থানার এক মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

গ্রেফতারের পর ডা. সাবরিনা করোনাভাইরাস পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে করা ওই মামলায় সাবরিনার স্বামী আরিফুলও কারাগারে আছেন।

জিকেজির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, দীর্ঘদিন ধরে যে ফোন নম্বরটি সাবরিনা ব্যবহার করে আসছেন, তা তার নামে নিবন্ধিত নয়।

ওই ফোন কার নামে নিবন্ধন করা জানতে চাইলে হতভম্ব হয়ে যান এই কার্ডিয়াক সার্জন।

এসময় তিনি বলেন, ওই সিম কার নামে নিবন্ধিত তা তিনি জানেন না। পরে ব্যক্তিগত গাড়ি চালককে ডেকে এ ব্যাপারে খোঁজ নিতে বলেন সাবরিনা। গাড়ি চালক অন্য একজনকে ফোন করে খোঁজ নিয়ে বলেন, ওই সিম সাবরিনারই এক রোগীর নামে নেওয়া।

সাবরিনা তখন বলেন, সিমটা একজন দিয়েছে, এটা আমার রোগীর নামে হয়ত। খুব শিগগিরই পরিবর্তন করে নেব।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, সাবরিনার ওই ফোন নাম্বারটি বাসাবো এলাকার পারভীন আক্তার নামে এক নারীর নামে নিবন্ধিত।

এভাবে সিম ব্যবহার করা আইনসঙ্গত নয়। এই নম্বর ব্যবহার করে তিনি কোনো অপরাধ করলে দায় পড়বে আরেকজনের ওপর। সিম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কোনো জালিয়াতি হয়েছে কি না সেটাও একটি বিষয়। এটা একটা বড় অপরাধ।

তবে এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার রুবায়েত জামান বলেন, সাবরিনার ওই সিম ব্যবহারের বিষয়টিও তদন্ত করা হবে বলে। এ বিষয়ে সাবরিনার ব্যক্তিগত গাড়ি চালক জানান, গত প্রায় একবছর ধরে তিনি এই চাকরি করছেন। শুরু থেকেই ওই নম্বরেই তিনি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে আসছেন।

জেকেজির এই জালিয়াতিতে আর কেউ জড়িত থাকলে খুব দ্রুতই তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার হারুন অর রশিদ।