সেই ওসির কাঁধে যৌনকর্মীর লাশ


bdnews24 bangla newspaper, bangladesh news 24, bangla newspaper prothom alo, bd news live, indian bangla newspaper, bd news live today, bbc bangla news, bangla breaking news 24

রাজবাড়ীতে তৃতীয় যৌনকর্মীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে পারভীন বেগম (৬৫) নামে ওই যৌনকর্মীর জানাজা শেষে স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে দাফনের ব্যবস্থা করেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আশিকুর রহমান।

এদিকে ওসি আশিকুর রহমান শুধু জানাজা নামাজ পড়িয়ে দায়িত্ব শেষ করেননি, কাঁধে নিয়েছেন যৌনকর্মীর মরদেহ। নেমেছেন কবরেও।

এর আগে, গোয়ালন্দ ঘাট থানায় যোগদানের পর প্রথম কোনো যৌনকর্মীর জানাজার ব্যবস্থা করে আলোচনায় আসেন  ওসি আশিকুর। প্রশংসা কুড়িয়েছেন অনেকের। গতকাল শনিবার দুপুরে এভাবে একে একে তৃতীয় যৌনকর্মীর জানাজার ব্যবস্থা করলো পুলিশ।

জানা যায়, বহু বছর ধরে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া রেলওয়ে স্টেশন পাশে পতিতাপল্লীর অবস্থান। সেখানে প্রায় ২ থেকে আড়াই হাজার বাসিন্দার বসবাস। এরমধ্যে ১২০০ যৌনকর্মী। এ পেশায় থাকার কারণে স্বাভাবিক জীবন-যাপনে রয়েছে তাদের নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা।

কিন্তু দেশের নাগরিক হিসেবে রয়েছে সকল অধিকার। স্বাভাবিকভাবে শুধু ভোটের মাধ্যমে তারা তাদের একমাত্র নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ পায়। যৌনকর্মীদের মৃত্যু হলে কোনো ইমাম জানাজা পড়াতেন না এবং আশপাশ এলাকার কোথাও কবর দিতে দিতো না এলাকাবাসী।

যেকারণে কোনো যৌনকর্মীর মৃত্যু হলে এক প্রকার বাধ্য হয়ে মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হতো। কিন্তু সাবেক সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম পতিতাপল্লীর পাশে একটি কবরস্থান করে দেন।

পরবর্তীতে বর্তমান সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী কবরস্থানের চারপাশের বাউন্ডারি দেয়াল করে দেন। কবরস্থান থাকলেও জানাজা ছাড়াই মাটি চাপা দেয়া হতো যৌনকর্মীদের মরদেহ।

সেই প্রথা ভেঙে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান চলতি মাসের ২ ফেব্রুয়ারি রাতে হামিদা বেগম নামে এক যৌনকর্মীর জানাজা পড়িয়ে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন করে দেশে প্রথমবারের মত যৌনকর্মীর জানাজা পড়ানোর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

পরে বিষয়টি গুরত্বের সঙ্গে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম প্রকাশ পায়। ওই জানাজা পড়ান দৌলতদিয়া রেলওয়ে মসজিদের ইমাম মৌলভী গোলাম মোস্তফা। পরে অবশ্য ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হওয়ায় ওই ইমাম ঘোষণা দেন; তিনি আর কোনো যৌনকর্মীর জানাজা পড়াবেন না।

এদিকে পুলিশের দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুয়াযী পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানেরে উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে রিনা বেগম নামে আারেক যৌনকর্মীর জানাজা অনুষ্ঠিত।

এ সময় পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সালাহউদ্দিন, গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশের ওসি আশিকুর রহমান সহ স্থানীয় এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পারভীন বেগম নামে আরেক যৌনকর্মীর জানাজা পড়ানোর মাধ্যমে তৃতীয় কোনো যৌনকর্মীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে যৌনকর্মীদের মৃত্যুর পর জানাজা পড়ানো অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। পরে মৃত যৌনকর্মীদের পতিতাপল্লীর পাশের কবরস্থানে দাফন করা হয়।

ওসি আশিকুর রহমান বলেন, মানবিক দৃষ্টি কোণ থেকে তিনি খাটিয়া কাঁধে নিয়েছিলেন, অন্য কিছু চিন্তা করে নয়। জানাজা শেষে সবাই অনেকে চলে যাওয়ার পর যারা খাটিয়া কাঁধে নিচ্ছিলেন তাদের মধ্যে লম্বায় সবাই সমান ছিলেন না। সামনের দিকে যিনি ছিলেন তিনি অনেক লম্বা, তাই খাটিয়া উঁচু নিচু হচ্ছিল। যে কারণে তিনি খাটিয়া কাঁধে নিয়েছিলেন।