গত বছর ১৮ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় সন্ত্রাসবাদীদের সাথে গোলাগুলিতে শহিদ হয়েছিলেন মেজর বিভূতি শঙ্কর ঢৌনদিয়াল। সেসময় স্বামীর কফিনবন্দি দেহর সামনে দাঁড়িয়ে বিদায়বেলায় চিৎকার করে স্ত্রী বলেছিলেন, ‘আই লাভ ইউ’।
সেই দৃশ্য গোটা দেশকেই কাঁদিয়েছিল। এবার স্বামীর হাটা পথেই সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চলেছেন মেজর বিভূতির স্ত্রী। সম্প্রতি সেনাবাহিনীতে আধিকারিক হিসেবে যোগ দিতে চলেছেন শহিদের স্ত্রী নিকিতা ধৌনদিয়াল। শর্ট সার্ভিস কমিশন এক্সাম এবং ইন্টারভিউ দেওয়া হয়ে গিয়েছে। এবার লক্ষ্য সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে স্বামীর মতোই দেশের জন্য কিছু করা।
বিয়ে করেছিলেন প্রেম করে। কিন্তু নবদম্পতির একসঙ্গে বিশেষ সময় কাটেনি। কারণ, দেশ বাঁচানোর দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে ৫৫ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসে যোগ দেন মেজর বিভূতি ধৌনদিয়াল। ফোনে প্রতিদিন অল্প সময় কথা হত।
বিবাহবার্ষিকীর পরিকল্পনাও করে ফেলেছিলেন দু’জনে। কিন্তু গত বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি বদলে গেল সবকিছুই। পুলওয়ামায় প্রায় ২০ ঘণ্টা জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াই চলে জওয়ানদের। তাতে মোট তিনজন সেনার মৃত্যু হয়। নিহতদের তালিকায় ছিলেন বিভূতি। স্বামীকে চূড়ান্ত বিদায় জানাতে গিয়ে নিকিতা বলেছিলেন, ‘তোমার মতো স্বামী পেয়ে আমি খুব সম্মানিত। আমি তোমাকে সবসময় ভালবাসব। তুমি সর্বদা বেঁচে থাকবে।’
বছর ৩৪–এর মেজর বিভূতি ৫৫ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের জওয়ান ছিলেন। তাঁর অদম্য সাহসিকতার জন্য তাঁকে মরনোত্তর সৌর্য চক্র সম্মানে সম্মানিত করা হয়েছিল। ছোটবেলা থেকেই সেনায় যোগদান করার প্রবল ইচ্ছা ছিল মেজর বিভূতির। সেনার পরীক্ষায় দু-বার অসফল হওয়ার পর অবশেষে তিনি সফল হন। স্বামীর মৃত্যুবরণের পর নিকিতা সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন। গতবছর নভেম্বরে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন তিনি। স্বামীর মতই তিনিও সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চান। এখন অপেক্ষা মেধা তালিকা প্রকাশ হওয়ার। এবার স্বামীর মতই অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চলেছেন নিকিতা।

