১১ ঘণ্টার ‘কুম্ভকর্ণ’ ঘুম! ময়মনসিংহে মেসের দরজা ভেঙে ছাত্র উদ্ধার


১১ ঘণ্টার ‘কুম্ভকর্ণ’ ঘুম! ময়মনসিংহে মেসের দরজা ভেঙে ছাত্র উদ্ধার

সোমবার বিকেল। চারদিকে যখন কর্মব্যস্ততা তুঙ্গে, তখন ময়মনসিংহের সানকিপাড়া এলাকায় তৈরি হলো এক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি। একটি ছাত্রাবাসের কক্ষের ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ নেই দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা। অবশেষে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের যৌথ অভিযানে দরজা ভেঙে উদ্ধার করা হলো ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মো. সোহানকে। তবে কোনো বিপদ নয়, বরং তার গভীর ঘুমই ছিল এই লঙ্কাকাণ্ডের মূলে।


কী ঘটেছিল সানকিপাড়ায়?

ময়মনসিংহ নগরীর সানকিপাড়া হেলথ অফিসার গলির একটি ছাত্র মেসে এই নাটকীয় ঘটনার সূত্রপাত। মো. সোহান নামের ওই শিক্ষার্থী রবিবার রাতে ঘুমানোর পর সোমবার বিকেল পর্যন্ত রুমের দরজা খুলছিলেন না। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন মেসের অন্য ছাত্র ও বাড়ির মালিক। তারা ধারণা করেছিলেন, ভেতরে হয়তো কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের একটি চৌকস দল। বিকেল ৪টার পর সকলের উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে দরজা ভাঙা হলে দেখা যায়, সোহান গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। তাকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পুরো অভিযানের একটি ভিডিও মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে, যা এখন নেটিজেনদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

সাংবাদিকের কলমে ঘটনার নেপথ্য ও বিশ্লেষণ

একজন সাংবাদিক হিসেবে গত দেড় দশকের অভিজ্ঞতায় আমি অনেক উদ্ধার অভিযান দেখেছি, কিন্তু এমন ‘ঘুম-বিলাসী’ ঘটনার নজির কমই আছে। সোহানের এই দীর্ঘস্থায়ী ঘুম কেবল একটি মজার ঘটনা নয়, বরং এটি সমসাময়িক তরুণ প্রজন্মের জীবনযাত্রা ও স্বাস্থ্যের প্রতি একটি প্রচ্ছন্ন বার্তা দেয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় জেগে থাকা বা ক্লান্তিজনিত কারণেই সোহান এভাবে গভীর ঘুমে তলিয়ে গিয়েছিলেন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যখন দরজা ভাঙার সরঞ্জাম নিয়ে ব্যস্ত, তখন মেসের বাইরে শত শত উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। সবার চোখে-মুখে ছিল উৎকণ্ঠা। যখন জানা গেল উদ্ধার হওয়া যুবক সুস্থ আছেন এবং স্রেফ ঘুমাচ্ছিলেন, তখন উপস্থিত সবার মাঝে একাধারে স্বস্তি ও হাসির রোল পড়ে।

ঘটনার মূল বিষয়সমূহ একনজরে:

  • উদ্ধারকৃত শিক্ষার্থী: মো. সোহান (১৯)।

  • স্থান: সানকিপাড়া হেলথ অফিসার গলি, ময়মনসিংহ।

  • সময়কাল: টানা ১১ ঘণ্টা কক্ষের ভেতর আবদ্ধ।

  • উদ্ধারকারী দল: ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ।

  • ফলাফল: অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার; অতিরিক্ত ঘুমের কারণেই এই বিপত্তি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া

ফেসবুকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নানা মন্তব্যে সয়লাব কমেন্ট বক্স। কেউ কেউ একে হাস্যরসাত্মক হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে মেস জীবনে পড়াশোনার চাপ বা অনিয়মিত জীবনযাপনকে দায়ী করছেন। একজন নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, “বর্তমান যুগে স্মার্টফোনের আসক্তি বা রাত জেগে পড়াশোনার ফলে তরুণদের ঘুমের চক্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এটি তারই একটি চরম উদাহরণ।”