২২ ফেব্রুয়ারি বিএনপির সমাবেশ



বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ, মানববন্ধন, অনশন, গণস্বাক্ষর, স্মারকলিপির পর জনসভা করতে যাচ্ছে বিএনপি। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অথবা নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
শুক্রবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
এ জন্য অনুমতি চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান রিজভী।
জিয়া এতিমখানা দুর্নীতির মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি আদালত খালেদা জিয়াকে ৫ বছর কারাদণ্ড দেওয়ার পর থেকে তিনি বন্দি আছেন। দলীয় চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে প্রথমে দুই দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি দেয় বিএনপি। এরপর মানববন্ধন, অবস্থান ও অনশন কর্মসূচি পালনের পর বৃহস্পতিবার আরও ‍তিন দিনের কর্মসূচি দেওয়া হয়।
এগুলো হল- শনিবার সারাদেশে গণস্বাক্ষর অভিযান, ১৮ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে স্মারকলিপি পেশ এবং ২০ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর বাদে সকল জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ সমাবেশ। ওই কর্মসূচি শেষ হওয়ার আগেই জনসভার কর্মসূচি দিল বিএনপি।
ঢাকায় বিএনপিকে জনসভার অনুমতি পেতে এর আগে বিভিন্ন সময় সমস্যা পোহাতে হয়েছে। অনুমতি না পাওয়ার জন্য নাশকতার শঙ্কার কথা পুলিশ ও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়।
অন্যদিকে খালেদা জিয়া বন্দি হওয়ার পর বিএনপি নেতারা বলছেন, তারা শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচিই চালিয়ে যেতে চান।
নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী অভিযোগ করেন, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “হবিগঞ্জে পৌর মাঠে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি কামনায় শুক্রবার সকালে কোরানখানির অনুষ্ঠানে পুলিশ হামলা চালিয়ে মঞ্চ ও মাইক ভেঙে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, বগুড়ায় মহাস্থানগড় মসজিদে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মসজিদের ইমাম সাহেব মোনাজাত করলে জেলার ডিসির নির্দেশে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সরকার ও তার প্রশাসন আজ মানুষের ব্যক্তিগত ধর্মীয় কাজেও বাধা দিচ্ছে নির্দয়ভাবে, এরা আল্লাহর কাছে মোনাজাত পর্যন্ত করতে দিচ্ছে না। আমরা এই জুলুমের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৩০ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে বিএনপির ৪ হাজার ৬৫০ জন নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে দ্বিতীয় দফা রিমান্ডে নিয়ে ‘নির্মম নির্যাতন’ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করেন।