২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান দমনে শেখ হাসিনার মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ: সাবেক আইজিপির জবানবন্দি



২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান দমনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি মারণাস্ত্র (লেথাল উইপন) ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ শেখ হাসিনাসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিতে গিয়ে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়। গত ১০ জুলাই চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এই মামলায় দোষ স্বীকার করে ট্রাইব্যুনালে রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) হওয়ার আবেদন করেন, যা মঞ্জুর হয়। দেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এই প্রথম কোনো আসামি দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন জানান, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার কাছ থেকে মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ পেয়েছিলেন। তিনি বলেন, “সেদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে ফোন করে জানান, শেখ হাসিনা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে সরাসরি লেথাল উইপন ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন।” ওই দিন তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে ছিলেন এবং তার সামনে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের নামও তিনি জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন। ১৮ জুলাই থেকেই আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার শুরু হয়, যার ফলে ব্যাপক গণহত্যা সংঘটিত হয়।

তিনি আরও জানান, মারণাস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান এবং সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ অতিরিক্ত উৎসাহী ছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের নির্দেশ ছিল, যেকোনো মূল্যে আন্দোলন দমন করতে হবে।