মূলধন বাড়াতে ৪০০ কোটি টাকার বন্ড ছাড়ছে মেঘনা ব্যাংক



ঢাকা: নিজস্ব মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর লক্ষ্যে ৪০০ কোটি টাকার বন্ড ছাড়ছে মেঘনা ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ইতিমধ্যে সাত বছর মেয়াদি এই দ্বিতীয় সাব-অর্ডিনেটেড বন্ডের অনুমোদন দিয়েছে।

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর মেঘনা ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক ব্যাংকিং পরিবেশে পর্যাপ্ত মূলধন সংরক্ষণ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে এই বন্ড ছাড়া হচ্ছে। বন্ডটির মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যাংকের টায়ার-২ মূলধন শক্তিশালী করার কাজে ব্যবহার করা হবে। এর ফলে ব্যাংকটির ঋণ বিতরণ ও বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়বে এবং উৎপাদনশীল শিল্প খাতে অর্থায়ন, বিদ্যমান ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণ ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা মিলবে।

বন্ডটির কুপন রেট বা মুনাফার হার পরিবর্তনশীল রাখা হয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ছয় মাস মেয়াদি স্থায়ী আমানতের সর্বোচ্চ গড় সুদের হারকে রেফারেন্স রেট ধরে তার সঙ্গে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ মার্জিন যোগ করে কুপন রেট নির্ধারিত হবে। ৩০ সেপ্টেম্বরের হিসাব অনুযায়ী রেফারেন্স রেট ৯ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং মার্জিন ৩ শতাংশ মিলিয়ে বার্ষিক কুপন রেট দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশে।

প্রচলিত স্থায়ী আমানত (এফডিআর), ডিপিএস কিংবা সঞ্চয়পত্রের তুলনায় এই বন্ডে প্রায় ৩ শতাংশ বেশি মুনাফা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বন্ডটির প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ টাকা এবং প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা প্রযোজ্য শর্ত মেনে এতে বিনিয়োগ করতে পারবেন।

বিনিয়োগকারীদের তারল্য সুবিধা নিশ্চিত করতে বন্ডটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মেইন বোর্ডে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে মেঘনা ব্যাংক। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর বিনিয়োগকারীরা সেকেন্ডারি মার্কেটে সহজেই বন্ডের ইউনিট কেনাবেচা করতে পারবেন, যা দেশের করপোরেট বন্ড বাজার এবং আর্থিক খাত ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি গতিশীল করতে সহায়ক হবে।

বিদ্যমান আয়কর আইন অনুযায়ী তালিকাভুক্ত এই বন্ডে বিনিয়োগ করে ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীরা কর রেয়াতের সুবিধা পাবেন। এ ছাড়া এই বন্ডে কোনো আবগারি শুল্ক প্রযোজ্য হবে না এবং ডিপিএস বা সঞ্চয়পত্রের মতো বিনিয়োগের কোনো সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারিত নেই।

মুনাফা ও আসল পরিশোধের সূচি সম্পর্কে ব্যাংকটি জানিয়েছে, বিনিয়োগকারীরা প্রতি ছয় মাস অন্তর কুপন মুনাফা পাবেন। বন্ডের মেয়াদের তৃতীয় বছর শেষ হওয়ার পর থেকে মূলধন ফেরত দেওয়া শুরু হবে এবং শেষ পাঁচ বছরে প্রতিবছর মূল বিনিয়োগের ২০ শতাংশ করে সম্পূর্ণ আসল পরিশোধ করা হবে।

মেঘনা ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির সব ধরনের বিধিবিধান পরিপালন করে এই সাব-অর্ডিনেটেড বন্ডটি বাজারে ছাড়া হচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও নিরাপদ মুনাফার সুযোগ তৈরির পাশাপাশি ব্যাংকটির ঝুঁকিভিত্তিক মূলধন পর্যাপ্ততার হার বৃদ্ধিতে এই তহবিল সরাসরি অবদান রাখবে।

সূত্র: প্রথম আলো