মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টার পদত্যাগ ও উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক আলোচনার প্রস্তাবের খবর প্রকাশের পর দরপতন ঘটেছে আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারে। শুধু শেয়ারদর নয়, এসব ঘটনার প্রভাবে বুধবার ডলারের মানও কমে যায়।
নিজের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ এজেন্ডার অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর শুল্কারোপের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ ঘোষণা শেয়ারবাজারে দরপতনের সূচনা করে। মঙ্গলবার শেয়ারসূচকগুলো কিছুটা পুনরুজ্জীবিত হলেও বুধবার আবার তা নিম্নমুখী হয়ে পড়ে।
মোট ৪৭টি দেশের শেয়ারমূল্য পর্যবেক্ষণকারী সূচক এমএসসিআই বুধবার দশমিক ২ শতাংশ নিম্নমুখী ছিল। তবে এক দশকেরও বেশি সময় পর দুই কোরিয়া বৈঠক করতে যাচ্ছে— এমন খবরে এটি শক্তিশালী হলেও ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কায় তা শেষ পর্যন্ত পতনের পথে হাঁটে। এছাড়া সব শেয়ারসূচকেই দুর্বলাবস্থা পরিলক্ষিত হয়।
প্যান-ইউরোপিয়ান দেশগুলোর শেয়ারসূচক স্টক্স ৬০০ দশমিক ৪ শতাংশ, জার্মানির রফতানিনির্ভর কোম্পানিগুলোর শেয়ারসূচক ড্যাক্সে দশমিক ৫ শতাংশ পতন দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপের হুমকিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাওয়া ইউরোপের গাড়ি কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরে বেশি পতন লক্ষ করা গেছে। বুধবার ইউরোপের গাড়ি কোম্পানির শেয়ারসূচকে ১ দশমিক ১ শতাংশ পতন হয়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা গ্যারি কন বরাবরই শুল্করোপের বিপক্ষে ছিলেন। এ অবস্থায় তার পদত্যাগের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুল্ক বাস্তবায়ন নিয়ে পুরোপুরি ফাঁকা মাঠে গোল দেয়ার সুযোগ পাবেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা, যা বিশ্ব বাণিজ্যযুদ্ধ সৃষ্টির সম্ভাবনা আরেক দফা বাড়িয়ে দেবে।
ওএএনডিএর এশিয়া-প্যাসিফিক বিভাগের প্রধান স্টিফেন ইনস বলেন, ‘তার পদত্যাগের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্ক বাস্তবায়নের সম্ভাবনা বহু গুণ বেড়ে গেল।’
আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিনিয়োগকারীরা এখন নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন; যার প্রভাবে মার্কিন বন্ডের ইল্ডে নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছে। এছাড়া বিশ্বের অন্য শীর্ষ মুদ্রাগুলোর বিপরীতে কমছে ডলারের মান। জাপানের ইয়েন ও সুইস ফ্রাঁর বিপরীতে ডলারের মান যথাক্রমে দশমিক ৪ ও দশমিক ২ শতাংশ করে কমে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে যেকোনো অনিশ্চয়তার সময় এ দুটি মুদ্রাকে অর্থলগ্নিতে নিরাপদ হিসেবে দেখে থাকেন বিনিয়োগকারীরা। এছাড়া ডলারের বিপরীতে দশমিক ৫ শতাংশ করে মান বেড়েছে কানাডীয় ডলার ও মেক্সিকোর পেসোর। নিউইয়র্কের রোসেল ইনভেস্টমেন্টের প্রধান বাজার কৌঁসুলি স্টিফেন উড বলেন, ‘নীতিমালাগত অনিশ্চয়তার কারণে সম্প্রতি বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হচ্ছে।’
এদিকে সিউলের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, আগামী মাসে দুই কোরিয়া এক ঐতিহাসিক সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে এবং সেখানে আলোচনার সময় উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক পরীক্ষা স্থগিত রাখতে প্রস্তুত রয়েছেন। তবে বিনিয়োগকারীরা এর সঙ্গে তাল মেলাতে পারেননি। বুধবার সকালে সিউলের সূচকে দশমিক ৪ শতাংশ পতন লক্ষ করা যায়। টোকিও দশমিক ৮ শতাংশ, হংকং ১ শতাংশ, সাংহাই দশমিক ৬ শতাংশ ও তাইপের সূচকে দশমিক ৪ শতাংশ পতন হয়।
