পেঁয়াজের ঝাঁজ বাড়ছেই




শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ একাধিক বড় বাজারে প্রতি কেজি ৯৫ টাকা দরে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছিলেন খুচরা বিক্রেতারা; আর পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানগুলোতে বিক্রি হচ্ছিল ১০০ টাকায়। গত সপ্তাহেও এই পণ্যটি ঢাকায় খুচরা পর্যায়ে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়।
ক্রেতা-বিক্রেতারা বলছেন, খুব সম্প্রতি পেঁয়াজের দাম এতো অসহনীয় পর্যায়ে আর পৌঁছেনি; স্মরণকালে কেজিপ্রতি পণ্যটির দর ১০০ টাকায় উঠেনি।
রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, শুক্রবার আমদানি করা পেঁয়াজের দাম গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে মানভেদে ৬৫ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি পেঁয়াজও কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ভারতে পেঁয়াজের দরের ব্যাপক ঊর্ধ্বগতির মধ্যে বৃহস্পতিবার স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বাড়াতে ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য (এমইপি) আগের বারের চেয়ে দ্বিগুণ বাড়িয়ে ৮৫০ ডলার নির্ধারণ করে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
এর আগে ২০১৫ সালের জুনে ভারত সব ধরনের পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য ২৫৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে টনপ্রতি ৪৩০ ডলার নির্ধারণ করে দিলেও ডিসেম্বর নূন্যতম রপ্তানিমূল্য প্রত্যাহার করে নেয়।
ভারতীয় গণমাধ্যম ইকনোমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির কয়েকটি রাজ্যে পেঁয়াজের দাম বেড়ে প্রতি কেজি ৭০ রুপিতে পৌঁছেছে। মওসুমের শেষ পর্যায়ে এসে মিশর ও চীন থেকে পেঁয়াজ আমদানিও শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা।
চলতি বছরের এপ্রিল-জুলাই সময়ে ভারত থেকে মোট ১২ লাখ টন পেঁয়াজ রপ্তানি করা হয়, যা আগের বছরের ৫৬ শতাংশ বেশি। এর পর অগাস্টে ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী রাম বিলাস পাসওয়ান ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য বসাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশও করেন।
তবে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই বাজারে খরিফ (শুষ্ক) মওসুমের নতুন পেঁয়াজ আসা শুরু করলে দাম কিছুটা কমবে। কিন্তু এই সময়ের পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা যায় না বলে ওই সময় ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য আরোপিত থাকলে ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন ভারতের চাষীরা। কারণ তখন বাংলাদেশেও নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসলে তারা বিক্রেতা সংকটে পড়বেন।
আরও পড়ুন; হিলিতে পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী    
পাইকারিতে আরেক দফা বেড়েছে পেঁয়াজের দাম           
দাম নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পেঁয়াজ আমদানি বাড়াচ্ছে ভারত     
ভোমরা স্থলবন্দরেও কমেছে পেঁয়াজ আমদানি     
হিলিতে পেঁয়াজ আমদানি অর্ধেকে নেমেছে