এই গরম থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব?


paperslife

তাপমাত্রা বেড়েই চলছে। এমন সময় সবার প্রয়োজন নিজের প্রতি বাড়তি যত্ন নেয়ার। যদি সঠিক নিয়মে যত্ন না নেয়া হয়, তাহলে অতিরিক্ত গরম ও রোদ ত্বকের দ্রুত ক্ষতিসাধন করতে পারে। যেহেতু দিন দিন তাপমাত্রা বাড়ছে তাই আমাদের ত্বক ও শরীরের যত্ন বিশেষ ভাবে নিতে হবে।

সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করে এই কথা সবাই জানি। আমাদের শরীরে এক ধরণের পিগমেন্ট রয়েছে তা হল মেলানিন। অতিরিক্ত সূর্যরশ্মির সংস্পর্শে এলে ত্বকে মেলানিন উৎপন্নের মাত্রা বেড়ে যায়, যার ফলে ত্বকের স্বাভাবিক রঙ নষ্ট হয়ে তামাটে হয়ে যায়। তাই বাইরে বের হওয়ার সময় নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত।

তাছাড়া সুতি কাপড় ছাড়া অন্য কোন ফেব্রিকের কাপড় না পরাই ভালো। কম বেশি সবারই ঘাম হয়, সিনথেটিক কাপড় শুষে নিতে পারেনা। সুতি কাপড় ঘাম ভালোভাবে শুষে নিতে পারে ও বাতাস চলাচল স্বাভাবিক রাখে।

গরমে ত্বকে ব্রণ, র‍্যাশ ও ঘামাচি দেখা যায়। সঠিক যত্ন নিলে এসব থেকে বেঁচে থাকা যাবে। অতিরিক্ত গরমে ত্বক ও শরীরের সুস্থতায় যেসব মেনে চলতে হবে সেগুলো হচ্ছে—

ত্বকের যত্ন:
রোদের হাত থেকে বাঁচতে সুতির লম্বা হাতার পোশাক পরে বাইরে গেলে হাত হয়তো রোদে পোড়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে। বাইরে বের হওয়ার আগে হাত পায়েও সানস্ক্রিন মেখে বাইরে যাওয়া উচিত।

মুখের যত্ন:
যত কিছুই করি মুখে কিন্তু রোদ লাগেই। তাই প্রতিদিনই মুখের যত্ন নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, বাড়ি ফিরেই মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে, যাতে ঘাম ও ধুলোবালি দূর হয়ে যায়। গরমকালে অনেকেই ব্রণের সমস্যায় ভোগেন। তাই যতবার সম্ভব মুখে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিতে হবে, যাতে ত্বকের উপরিভাগের ধুলো ও তেল সরে যায় ও ত্বক ঠাণ্ডা থাকে।

ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার করতে সপ্তাহে দু-তিনদিন স্ক্র্যাব করে নিতে পারেন। যাদের ত্বকে ব্রণ ও দাগ রয়েছে, তারা মুলতানি মাটি, চন্দন, গোলাপজল একসঙ্গে মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। আধা শুকনো হয়ে আঙুল দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন।

ত্বক টানটান রাখতে ডিমের সাদা অংশ, লেবুর রস, চন্দন, টকদই ও বেসন একসঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগান। শুকিয়ে এলে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটায় ধুয়ে ফেলুন।

আবহাওয়া উপযোগী পণ্য ব্যবহার করুন:
ভারী ক্রিম ও লোশন, যা শীতকালে ব্যবহার করে এসেছেন, সেগুলো আপাতত বাক্সবন্দি করে রাখুন অথবা পায়ের শুষ্কতা দূর করতে ব্যবহার করুন। কারণ এ গরমে এসব পণ্য আপনার ত্বকের জন্য উপযোগী নয়। এ ধরনের পণ্য ত্বকের রোমকূপকে বন্ধ করে দেয়।

ফলে তীব্র গরমে ত্বক শ্বাস নিতে পারে না। এ সময় হালকা লোশন ও সিরাম ত্বকের জন্য প্রয়োজনীয়। সাধারণ ত্বকের জন্য ওয়াটার বেজড ময়েশ্চারাইজার ও তৈলাক্ত ত্বকের জন্য জেল বেজড ময়েশ্চারাইজার বেছে নিতে হবে। তবে প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারলে সবচেয়ে বেশি ভালো হয়।

গোসলের পানিতে গ্লিসারিন ও গোলাপজল মিশিয়ে তারপর গোসল করুন। এতে ত্বক ময়েশ্চারাইজড থাকবে। অন্যদিকে শুষ্ক ত্বকের অধিকারীরা গোসলের ১৫ মিনিট আগে ত্বকে টকদই লাগিয়ে রাখুন। এতে ত্বক হাইড্রেটেড থাকবে ও রোদে পোড়া দাগ থাকলেও তা কমে যাবে।

প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করুন:
বর্তমানে আমরা অনেক বেশি রাসায়নিক সৌন্দর্যপণ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছি। কিন্তু ত্বকের প্রতি যত বেশি সদয় হওয়া যায় ততই মঙ্গল। তাই যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহারের চেষ্টা করুন। ত্বকের তরতাজা ভাব বজায় রাখতে লেবু ও টমেটো খুবই উপকারী। টমেটো ব্লেন্ড করে আইসট্রেতে জমিয়ে নিন। বাইরে থেকে ফিরে ত্বকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে লাগান। টমেটোর মধ্যকার লাইকোপেন ত্বকের পরিচ্ছন্নতা ও সুস্থতা ধরে রাখতে খুবই ভালো ভূমিকা পালন করে।

ঠোঁট ও চোখের যত্ন:
গ্রীষ্মকালে দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সূর্যের তাপ অনেক প্রখর থাকে। যদি এ সময়ের মধ্যে বাইরে বের হতে হয়, তাহলে অবশ্যই সানগ্লাস পরে ও ঠোঁটে লিপবাম মেখে বের হতে হবে।

গন্তব্যে পৌঁছে অবশ্যই ঠাণ্ডা পানির ঝাপটায় চোখ ধুয়ে নিতে হবে। এতে চোখ ভালো থাকবে। যারা কাজের জন্য প্রতিদিনই বাইরে বের হন, তারা আলু বা শসার রসে দুটি কটনবল ভিজিয়ে ফ্রিজে রেখে বের হবেন। রাতে বাড়ি ফিরে কটনবল দুটি চোখের ওপর রেখে রিল্যাক্স করুন। এতে চোখের নিচের কালো দাগও দূর হবে আর আপনি স্বস্তিও অনুভব করবেন।

ঠাণ্ডা খাবার খান:
গরমকালে কতখানি স্বস্তি অনুভূত হবে ও ত্বক কতখানি ভালো থাকবে, তার অনেকটাই নির্ভর করে কী খাবার খাচ্ছেন তার ওপর।

এ সময় বেশি ভাজাপোড়া খাবার না খেয়ে কম মসলা দিয়ে রান্না করা সবজি ও মাছ খান। চেষ্টা করুন পর্যাপ্ত সালাদ, ফলমূল ও জুস খেতে। তবে অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে যেতে হবে।

সবচেয়ে জরুরী হল প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। ডাবের পানিও খেয়ে নিতে পারেন। এতে শরীর সতেজ থাকবে।