খাবার জীবন বাঁচায় আবার এই খাবারই মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অতিরিক্ত খাবার যেমন ক্ষতিকর তেমনি কিছু খাবার নিয়ম মেনে না খেলে মৃত্যর ঝুঁকি থাকে। যেমন:
মাশরুম: ডেথ ট্যাপ-এর মতো ওয়াইল্ড মাশরুম খুবই ক্ষতিকর। বনেবাদাড়ে এটি মেলে। এই মাশরুম খেলে পেটব্যথা, বমি হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। বিকল হতে পারে হার্ট, লিভার বা কিডনি।

কাঠবাদাম: ব্রেকফাস্টের সঙ্গে বা হাল্কা স্ন্যাক্সের সঙ্গে কাঠবাদামের জুড়ি মেলা ভার। অনেকেই সুইট আমন্ডের বদলে বিটার আমন্ড খেতে বেশি পছন্দ করেন। তবে এতে যে সায়ানাইড রয়েছে, তা জানেন কি? প্রসেসিংয়ের সময় সেই সায়ানাইড বের না করলে সেই বিটার আমন্ড খেয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

কাজুবাদাম: খোসা ছাড়িয়ে কাঁচা কাজুবাদাম খাবেন না; অ্যালার্জি হতে পারে। কাঁচা কাজুবাদামের খোলায় থাকে অ্যানাকার্ডিক অ্যাসিডের মতো রাসায়নিক। খোসা ছাড়ানোর সময় তা কাঁচা কাজুবাদামে মিশে যায়। সঠিক তাপমাত্রায় রোস্ট না করলে তা কাজুর গা লেগে থাকবে।

চিনাবাদাম: চিনাবাদাম সবারই প্রিয়। এতেও ভয়ের কারণ আছে। যাদের ফুড অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের জন্য এই সতর্কবার্তা। চিনেবাদাম খেয়ে ফুড অ্যালার্জি হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটেছে অনেকের।

অক্টোপাস: কোরিয়ায় বেবি অক্টোপাস খাওয়াটা বেশ অ্যাডভেঞ্চারের। কারণ, পরিবেশনের কয়েক সেকেন্ড আগেও তা জ্যান্ত রাখা হয়। সান্নাকজি নামের ওই ডিসটি সুস্বাদু হলেও প্রাণঘাতী হতে পারে। কারণ, ভাল মতো না চিবিয়ে খেলে বেবি অক্টোপাসের সাকশন কাপগুলো গলায় লেগে থেকে শ্বাসরোধ করে দিতে পারে।

আকি: জামাইকার জাতীয় ফল আকি খেতে হলে একটু সাবধান। আকিতে রয়েছে হাইপোগ্লাইসিন নামের বিষ। বিশ্বের অন্যতম বিষাক্ত ফল এটি। কারণ, পুরোপুরি পাকার আগে ওই ফল খেলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে বা কোমায় চলে যেতে পারেন। একমাত্র পাকা আকির বীজের চারপাশের হলদেটে অংশটাই খাওয়া যেতে পারে।

ডেইলি মেল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের অন্যতম বিষাক্ত ফুগু মাছ খেয়ে ফি বছরে মৃত্যু হয় ৩০-৫০ জনের। এর ডিম্বাশয়-অন্ত্র-লিভারে টেট্রোডোটক্সিন রয়েছে যা সায়ানাইডের থেকেও ১২০০ গুণ বিষাক্ত।

পেশি অবশ করে শ্বাসরোধও করতে পারে তা। ফুগু রান্নার আগে দু’বছরের ট্রেনিং ও পরীক্ষা দিতে হয় শেফদের। তবে দু’তৃতীয়াংশই ওই পরীক্ষায় ফেল করেন।
ফেসবুকে আমাদের নিউজ বা ফিচার পেতে পেপার’স লাইফ
বিন স্প্রাউট: ইকোলি, সালমনেল্লা বা লিস্টেরিয়া ব্যাকটেরিয়া সহজেই বাসা বাঁধে বিন স্প্রাউটে। সাধারণত উষ্ণ এবং আর্দ্র পরিবেশে জন্মানো বিন স্প্রাউটেই ওই ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি হয়।

২০১১-তে ইউরোপে ইকোলির ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপেই মৃত্যু হয়েছিল ২২ জনের। অনেকের মতে, জার্মানিতে চাষ করা বিন স্প্রাউট থেকে ছড়িয়েছিল ইকোলি।

