প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে কারিগরি ত্রুটি, বিমানের তদন্ত কমিটি



ঢাকা: জাপান থেকে ফেরার পথে প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ার ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর জারি করা এক অফিস আদেশে চার কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক এয়ার কমোডর মো. নিয়ামুল কবির স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী নারিতা-ঢাকা ফ্লাইটে এই যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়। জাপানের নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট বিজি-৩৭৭ উড্ডয়নের আগেই ত্রুটিটি ধরা পড়ে।

গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিমানের পরিকল্পনা ও সময়সূচি বিভাগের প্রধানকে। কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সংস্থাটির আইনবিষয়ক ব্যবস্থাপক। কমিটির বাকি দুই সদস্য হলেন প্রকৌশল উৎপাদন বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী এবং ফ্লাইট নিরাপত্তা বিভাগের উপপ্রধান।

তদন্ত কমিটিকে নির্ধারিত চার কর্মদিবসের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে কমিটি প্রয়োজনে বিমানের যেকোনো কর্মকর্তাকে এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার এখতিয়ার রাখবে এবং আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী তদন্ত কমিটি ফ্লাইট বিজি-৩৭৭ উড়োজাহাজে দেখা দেওয়া ত্রুটির প্রকৃত কারণ ও ধরন সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করবে। একই সঙ্গে ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর তা সমাধানে কী ধরনের কারিগরি ও পরিচালনাগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে উড়োজাহাজটির উড্ডয়ন-যোগ্যতা কীভাবে নিশ্চিত করা হয়েছিল, সেসব বিষয়ও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করবে কমিটি।

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর শেষে দেশে ফেরা উপলক্ষে পরিচালিত ওই ফ্লাইটের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা ও দায়িত্ব খতিয়ে দেখতে তদন্তকারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ বা পরিচালনার কোনো পর্যায়ে কারও দায়িত্বে অবহেলা, আন্তবিভাগীয় সমন্বয়হীনতা কিংবা প্রক্রিয়াগত ভুল ছিল কি না, তা নির্ধারণ করে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

কারিগরি ত্রুটির কারণে ফ্লাইটের সময়সূচি বিলম্বিত হওয়া, অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয়, সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি এবং রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটির প্রাতিষ্ঠানিক সুনামের ওপর এর প্রভাবও মূল্যায়ন করবে কমিটি। ভবিষ্যতে ভিভিআইপি ও নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে এ ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির পুনরাবৃত্তি রোধে সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা প্রস্তুত করবেন কমিটির সদস্যরা।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দাপ্তরিক সূত্র অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড্ডয়ন-পূর্ববর্তী পরীক্ষায় ধরা পড়া এই ত্রুটির প্রতিটি কারিগরি দিক খুঁটিয়ে দেখে ভবিষ্যতে ফ্লাইট নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: বাসস