কক্সবাজার: উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ থেকে নির্গত গ্যাসের আগুন টানা চার দিন ধরে জ্বলতে থাকায় ১৫ দিন পর্যবেক্ষণের পর রিলিফ কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে পেট্রোবাংলা। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের প্রতিনিধিদল এ তথ্য জানায়।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েবের নেতৃত্বে বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শামসিয়া মুকতাদিরসহ বিশেষজ্ঞ দলটি শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর সন্ধ্যায় ইনানীর ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করে। এর আগে বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ঢাকায় পেট্রোবাংলার বিশেষজ্ঞ সভায় ধারণা করা হয় যে নির্গত গ্যাসটি থার্মোজেনিক ও বায়োজেনিক প্রকৃতির হতে পারে।
প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানান, আগামী ১৫ দিন আগুনের শিখার উচ্চতা ও গ্যাসের প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করা হবে। এই সময়ের মধ্যে আগুনের তীব্রতা না কমলে কিংবা একই রকম থাকলে সাইড ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি রিলিফ কূপ খননের মাধ্যমে গ্যাসের নির্গমন বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে আশপাশের আরও কয়েকটি ভূতাত্ত্বিক স্তর থেকেও গ্যাসের উপস্থিতি লক্ষ্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ভবিষ্যতে বাপেক্স ওই এলাকায় ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) ভূকম্পন জরিপ পরিচালনা করবে এবং দেশের জ্বালানি ও গ্যাস খাত শক্তিশালী করতে সেখানে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত পাওয়া গেলে নতুন কূপ খনন করা হবে।
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর সকাল সাতটার দিকে ইনানী মেরিন ড্রাইভের ছোট সেতুসংলগ্ন মোস্তফা সিকদারের বাড়ির আঙিনায় গভীর নলকূপ খননের সময় গ্যাস বের হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। শুরুতে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ বালু এবং পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও বিকেল পাঁচটার পর থেকে আগুনের তীব্রতা বেড়ে যায় এবং শুক্রবার রাত ১১টা পর্যন্ত তা অপরিবর্তিত থাকে।
বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শামসিয়া মুকতাদির জানান, নিজস্ব কারিগরি সক্ষমতায় পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হলেও বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য জানান, বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শে ভূগর্ভস্থ গ্যাস শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন জ্বলতে দেওয়া হচ্ছে।
আগুন দেখতে মেরিন ড্রাইভ এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় বাড়তে থাকায় জননিরাপত্তার স্বার্থে বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর রাত থেকে ঘটনাস্থলের চারপাশের ২০০ বর্গমিটার এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার। সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও বাপেক্সের বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছেন।
স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইনানী মেরিন ড্রাইভের ওই এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের কারিগরি বিশেষজ্ঞদের প্রতিদিনের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই গ্যাসের চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং পরবর্তী খননকাজের চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সূত্র: প্রথম আলো

