এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে ভুয়া পাসের হার প্রচারে সতর্কতা


৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এইচএসসি ফরম পূরণের সময় পাবে শিক্ষার্থীরা

ঢাকা: চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পাসের হার ছড়ানোর তথ্য পাওয়া গেছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, শনিবার, ৩১ অক্টোবর বেলা ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশিত হবে এবং প্রচারিত পাসের হারটি অসত্য।

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ফেসবুকের ৪০টির বেশি পেজ ও ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে ফটোকার্ড এবং লেখার মাধ্যমে দাবি করা হয় যে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৫৩ দশমিক ২৩ শতাংশ। এসব পোস্টে সংবাদমাধ্যম সময় টিভির নাম সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং ‘শুভ সাজেশন’ নামের একটি ফেসবুক পেজের পোস্টে ৮ হাজার ৩০০-এর বেশি প্রতিক্রিয়া ও ৭৮০টির বেশি মন্তব্য জমা পড়ে।

তথ্য যাচাইয়ে দেখা গেছে, সময় টিভির ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল কিংবা ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এমন কোনো পরিসংখ্যান বা সংবাদ প্রকাশ করা হয়নি। বরং ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩১ অক্টোবর হওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের কথাই জানানো হয়েছিল।

ফলে ফল প্রকাশের নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৫৩ দশমিক ২৩ শতাংশ পাসের হারের ফটোকার্ড ও পোস্টগুলো পুরোপুরি বানোয়াট। পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের এ ধরনের ভিত্তিহীন প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর বেলা ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরপরই বেলা ১১টা থেকে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তি ছাড়াই শিক্ষা বোর্ডগুলোর নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং মোবাইল ফোনের ক্ষুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে ঘরে বসে নিজেদের ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবেন। এ ছাড়া রোববার, ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ করা হবে এবং শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে ফি প্রদানের নিয়মাবলি জানানো হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। সারা দেশের ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষায় অংশ নেন।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার্থীদের নিজ নিজ রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ওয়েবসাইট কিংবা টেলিটক প্রিপেইড নম্বরের এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে ইআইআইএন নম্বর ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলের শিট ডাউনলোড করতে পারবে।

সূত্র: প্রথম আলো ও বাসস