ভারতের মাটিতে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর সিদ্ধান্তে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ দল। সেই না-পারা নিয়ে শুক্রবার মিরপুরে মুখ খুললেন জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। কলকাতা ও শ্রীলঙ্কার উইকেট দেখে তাঁর আক্ষেপ — সুযোগ ছিল, কিন্তু তা আর নেওয়া হলো না।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গণমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে সালাউদ্দিনের কণ্ঠে ছিল হতাশা, আবার বাস্তবতার স্বীকারোক্তিও। তাঁর ভাষায়, “কলকাতা ও শ্রীলঙ্কাতে খেলা দেখার পরে মনে হলো যে উইকেটটা হয়তো আমাদের জন্য অনেক দারুণ হতো। আমরা হয়তো এই উইকেটে ভালো করতে পারতাম।” সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোর গতি-প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে তাঁর মনে হয়েছে, প্রতিযোগিতার মান ও উইকেটের আচরণ—দুটোই বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের দক্ষতার সঙ্গে মানানসই ছিল।
বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দীর্ঘ প্রস্তুতি নিয়েছিল দল। ব্যাটিং-সংগঠন, বোলিং-ভ্যারিয়েশন এবং ফিল্ডিং-মান; সবকিছু মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি ইউনিটটি ছিল “গোছানো”, এমনটাই দাবি কোচের। “এই বিশ্বকাপটা ঘিরে আমাদের অনেক স্বপ্ন ছিল,” বলেন তিনি। তাঁর মতে, কেবল কৌশলগত নয়, মানসিক প্রস্তুতিতেও দল এগিয়ে ছিল। তাই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় আক্ষেপটা আরও তীব্র।
তবে আক্ষেপে ডুবে থাকাকে তিনি সমাধান মানছেন না। “এখন আফসোস করে তো লাভ নাই”, সোজাসাপ্টা স্বীকারোক্তি তাঁর। কিন্তু সেই স্বীকারোক্তির আড়ালে ফুটে উঠেছে খেলোয়াড়দের মানসিক ধাক্কার গল্প। সালাউদ্দিন জানান, বিশ্বকাপ খেলতে না পারার হতাশায় দুই ক্রিকেটার প্রায় ‘কোমায়’ চলে গিয়েছিলেন। “আমি তো জানি আমার দুইটা খেলোয়াড় প্রায় কোমাতে চলে গেছিল। পাঁচ দিন ধরে কোথায় যেন হারায় গিয়েছিল তারা,” বলেন তিনি। পরে ‘অদম্য কাপ’ টুর্নামেন্টে তাঁদের মাঠে ফেরানো গেছে, এটাকেই নিজের জীবনের বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন কোচ। “সে মাঠে এসেছে এবং এসে আবার রান করেছে”, এই প্রত্যাবর্তনকে তিনি মানসিক জয়ের প্রতীক বলেই মনে করেন।
সালাউদ্দিনের কন্ঠে হতাশা ঝড়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “একটা দলকে আপনি এক সেকেন্ডে নষ্ট করে দিয়েছেন।” তাঁর ব্যাখ্যায়, একটি বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন গড়ে ওঠে বছরের পর বছর ধরে; সিদ্ধান্তের এক মুহূর্তে তা ভেঙে গেলে অভিঘাতটা শুধু স্কোরবোর্ডে নয়, মানুষের ভেতরেও লাগে। তিনি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে এমন বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে খেলোয়াড়দের মনস্তত্ত্ব ও প্রস্তুতির দিকটিও সমান গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

