অসুস্থ বাবাকে সাইকেলে নিয়েই ১২০০ কি.মি. পথ পাড়ি ১৫ বছরের মেয়ের!


bdnews24 bangla newspaper, bangladesh news 24, bangla newspaper prothom alo, bd news live, indian bangla newspaper, bd news live today, bbc bangla news, bangla breaking news 24, prosenjit bangla movie, jeeter bangla movie, songsar bangla movie, bengali full movie, bengali movies 2019, messi vs ronaldo, lionel messi stats, messi goals, messi net worth, messi height

করোনা সংক্রমণের কারণে দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। এমন অবস্থায় অসুস্থ বাবাকে সাইকেলে নিয়েই ১২০০ কিমি পথ পাড়ি দিলেন ১৫ বছরের মেয়ে জয়তী কুমারী।

ভারতে লকডাউনের জেরে দুঃস্থ মানুষদের শোচনীয় অবস্থার কথা নতুন করে আর কিছু বলার নেই। পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছে বহু শ্রমিক। পথেই মারা গিয়েছেন বহু শ্রমিক।

লকডাউনে তাঁদের ভোগান্তি হয়েছে সব থেকে বেশি। জয়তী কুমারী ও তাঁর বাবার পরিণতিও তেমনই কিছু হতে পারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অদম্য জেদের জন্যই জিতে গেল সে।

অসুস্থ বাবাকে সাইকেলের পিছনে নিয়ে সাতদিন সাইকেল চালিয়েছে জয়তী। এর মধ্যে দুদিন কোনে খাবার জোটেনি। পথে যে যেমনভাবে টুকটাক খাবার দিয়ে সাহায্য করেছে তাই জুটেছে। কিন্তু জয়তী হার মানেনি।

জয়তীদের বাড়ি বিহারে। তার বাবা গুরগাওয়ে রিকশা চালাতেন। কিন্তু গত মার্চে জয়তীর বাবা মোহন পেশওয়ান এক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে জখম হন। এর পর লকডাউন। বাবাকে গুরুগাও থেকে আনতে গিয়েছিল জয়তী।

কিন্তু আটকে পড়ে সে। বাবার কাজ নেই। হাতে টাকা নেই। খাবার নেই। এর মধ্যে যে বাড়িতে জয়তীর বাবা ভাড়া থাকতেন সেই বাড়িওয়ালা তাদের ভাড়া না দিলে তুলে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকেন। বাধ্য হয়েই বাবাকে সাইকেলে চাপিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফেরার সিদ্ধান্ত নেয় জয়তী।

জয়তীর বাবা বলেছেন, টাকা ছিল না। ওষুধ কিনতে পারিনি। কোনওরকম আমি আর মেয়ে একবেলা খেয়ে কাটাতাম। দুর্ঘটনার পর স্ত্রী কিছু গয়না বিক্রি করে টাকা পাঠায়। বাড়িওয়ালাকে বলেছিলাম, লকডাউন উঠে গেলে পাওনা টাকা মিটিয়ে দেব।

কিন্তু উনি কথা শোনেননি। মেয়েকে বারণ করেছিলাম এতটা রাস্তা সাইকেলে পাড়ি দিতে! কিন্তু ও কথা শোনেনি। কিছু টাকা ধার করে সাইকেলে কেনে ও। তার পর আমরা রওনা দিই।

বিহারে গ্রামের বাড়িতে জয়তীর ভাই—বোন রয়েছে। মা সেখানে দিনমজুরির কাজ করেন। কিন্তু এখন কাজ নেই। গ্রামের বাড়িতেও হয়তো না খেয়েই কাটাতে হবে। তবুও জয়তীদের কিছু করার নেই। ধীরে ধীরে দেশের শ্রমিকরা শহর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। মরতে হলে গ্রামেই মরব।

সুত্র: জি নিউজ।