আফগানিস্তানে দীর্ঘদিনের যুদ্ধ অবসানে তৎপর হওয়ার চেষ্টা করছেন নেটো নেতারা। ব্রাসেলসের নেটো সম্মেলনে তারা দ্বিতীয় দিনে নেতারা আফগানিস্তান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
গতকাল বুধবার সম্মেলনের প্রথম দিনটি কেটেছে নেটো প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি নিয়ে। এরপরই বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনে নেতারা আফগানিস্তান পরিস্থিতি নিয়ে মনোযোগী হন।
এই দিনে আফগান তালেবান জঙ্গিরা একটি সামরিক ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে ৩০ সেনাকে হত্যা করেছে।
নেটো সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় জোটের বাইরের সদস্যদেরকেও স্বাগত জানিয়েছেন নেতারা। আলোচনায় উপস্থিত থাকছেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি।
নেটো মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ আশা করছেন ২০২৪ সাল পর্যন্ত আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য অর্থ সরবরাহ করতে জোট একমত হবে।
এদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে ইতোমধ্যেই নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে সেনাদের প্রয়োজনীয় পশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্য বাড়তি ৪৪০ সেনা পাঠাবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেটো জোটের সামরিক ব্যয়ের জন্য মিত্রদেশগুলোকে তাদের জিডিপি’র অন্তত ৪ শতাংশ বরাদ্দ করার আহ্বান জানিয়েছেন। নেটো দেশগুলো সম্প্রতি ২ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে কাজ করছে। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে ট্রাম্প এ লক্ষ্যমাত্রা ২০১৯ সালের মধ্যেই পূরণের দাবি জানিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে কয়েকটি প্রতিবেদনে।
এর আগে আফগান বাহিনীকে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্রও ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে বাড়তি ৩ হাজার সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এতে করে দেশটিতে মার্কিন সেনা সংখ্যা মোট ১৫ হাজারে দাঁড়াবে।
আফগানিস্তানে তালেবান জঙ্গিরা বৃহস্পতিবার উত্তরাঞ্চলীয় কুন্দুজ প্রদেশের কয়েকটি সামরিক ফাঁড়িতে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, নেটো ২০১৪ সালে আফগানিস্তানে যুদ্ধাভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করে আফগান বাহিনীর হাতে নিরাপত্তাভার ছেড়ে দেওয়ার পর থেকে দেশজুড়ে জঙ্গিদের দৌরাত্ম বেড়েছে।
