ই-স্পোর্টস এখন বাংলাদেশের স্বীকৃত ক্রীড়া: গেমিংয়ে নতুন দিগন্ত



বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক স্পোর্টস (ই-স্পোর্টস) এখন সরকারিভাবে ‘ক্রীড়া’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, যা দেশের গেমিং সম্প্রদায়ের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন-২০১৮ এর ২(২) ও ৬ ধারা অনুযায়ী এই স্বীকৃতি প্রদান করেছে। গেমার ও ই-স্পোর্টস সংশ্লিষ্টরা এই ঘোষণাকে উৎসাহের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন।

গত সোমবার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ক্রীড়া শাখা-১ এর সিনিয়র সহকারী সচিব ফয়সাল রায়হান স্বাক্ষরিত এক পত্রে ই-স্পোর্টসকে ক্রীড়া হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের তরুণ গেমারদের জন্য একটি পেশাদার প্ল্যাটফর্ম তৈরি এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিযোগিতার পথ সুগম করবে।

ই-স্পোর্টসের সুষ্ঠু পরিচালনা ও নীতিমালা প্রণয়নের জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির আহ্বায়ক যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. সাইফুল ইসলাম। সদস্য হিসেবে রয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির একজন অধ্যাপক এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া), যিনি সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিকে আগামী ২১ কর্মদিবসের মধ্যে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কমিটি আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির গাইডলাইন মেনে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করবে। এতে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের মতামত, সংশ্লিষ্ট আইন-বিধি এবং সরকারি নিয়মকানুন বিবেচনায় নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও গ্রহণ করা হবে।

দেশের গেমিং কমিউনিটি এই স্বীকৃতিকে একটি গেমচেঞ্জার হিসেবে অভিহিত করেছে। গেমার তানভীর আহমেদ বলেন, “ই-স্পোর্টসকে ক্রীড়া হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় আমরা এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাব। এটি আমাদের জন্য একটি স্বপ্ন পূরণের মুহূর্ত।” আরেক গেমার নুসরাত জাহান বলেন, “এই স্বীকৃতি আমাদের সমাজে গেমিংয়ের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করবে।”

ই-স্পোর্টসের স্বীকৃতির ফলে বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং তরুণদের জন্য পেশাদার ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ তৈরি হবে। আন্তর্জাতিকভাবে ই-স্পোর্টসের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে বিশ্ব গেমিং মঞ্চে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে যাবে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, “ই-স্পোর্টসকে স্বীকৃতি দেওয়া তরুণদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও ক্রীড়াঙ্গনের সমন্বয়ে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে। আমরা এই খাতকে সুশৃঙ্খল ও পেশাদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” এই স্বীকৃতি বাংলাদেশকে বিশ্বের ই-স্পোর্টস মানচিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।