ইরানে হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি পেন্টাগনের, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা


ইরানে হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি পেন্টাগনের, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুগুলোতে একযোগে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর জন্য ওয়াশিংটন এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। পেন্টাগন জানিয়েছে, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন এবং নির্দেশ পাওয়ামাত্রই চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ অভিযান শুরু হতে পারে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এই হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো ‘সবুজ সংকেত’ দেননি।

উপকূলে যুদ্ধের মেঘ: রণতরি ও বোমারু বিমান মোতায়েন

সিএনএন-এর বরাত দিয়ে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে মধ্যপ্রাচ্যে নজিরবিহীন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং সর্বাধুনিক পারমাণবিক শক্তিচালিত রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ বর্তমানে আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে দ্রুত গতিতে পারস্য উপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী রোববারের মধ্যেই এটি সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে পৌঁছে যাবে।

ইতোমধ্যেই আরব সাগরে অবস্থান করছে আর এক শক্তিশালী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কয়েক ডজন ডেস্ট্রয়ার এবং বি-৫২ বোমারু বিমান। হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে অনুষ্ঠিত এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সামরিক কমান্ডাররা প্রেসিডেন্টকে নিশ্চিত করেছেন যে, বাহিনী যেকোনো মুহূর্তে আঘাত হানতে সক্ষম।

নেপথ্যে কূটনৈতিক ব্যর্থতা ও রমজান ফ্যাক্টর

জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও তাতে কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান আসেনি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান তাদের ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত শর্তগুলো মানতে এখনো নারাজ।

এদিকে, গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ইরান তাদের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো কংক্রিট ও মাটির স্তূপ দিয়ে ঢেকে সুরক্ষার চেষ্টা করছে। তবে হামলার সময় নির্ধারণে কিছু ধর্মীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে পবিত্র রমজান মাস চলায় এবং আগামী মঙ্গলবার ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণ থাকায় সামরিক পরিকল্পনাকারীরা কিছুটা কৌশলগত দোটানায় রয়েছেন।

বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে হামলার পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন যুক্তি বিশ্লেষণ করছেন। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ইরানকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক শাসনব্যবস্থা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন কেবল সীমিত হামলা নয়, বরং ইরানের শাসনব্যবস্থাকে বড় ধরনের ঝাঁকুনি দেওয়ার মতো কোনো অভিযানের পরিকল্পনা করছে।

মূল ফ্যাক্টস: এক নজরে বর্তমান পরিস্থিতি

  • যুদ্ধজাহাজ: পারস্য উপকূলে ‘ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড’ ও ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’—দুইটি বিশাল নৌবহরের উপস্থিতি।

  • আকাশপথ: কাতার ও সাইপ্রাসের বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন করা হয়েছে ৫০টিরও বেশি স্টিলথ ফাইটার জেট (F-35 ও F-22)।

  • ডেডলাইন: ইসরায়েলি ও মার্কিন সূত্রমতে, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ নাগাদ ইরান নতি স্বীকার না করলে সামরিক পদক্ষেপই হবে একমাত্র বিকল্প।

  • আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া: সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো সতর্ক করেছে যে, কোনো ভুল পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে এক দীর্ঘস্থায়ী মহাযুদ্ধের সূচনা করতে পারে।