ইরানের নতুন নেতৃত্বে কিম জং উনের সমর্থন


ইরানের নতুন নেতৃত্বে কিম জং উনের সমর্থন

ইরানের ক্ষমতা কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের আবহে বিশ্ব রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন মেরুকরণ। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির স্থলাভিষিক্ত হওয়াকে আনুষ্ঠানিক ‘সম্মান’ ও পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে কিম জং উনের উত্তর কোরিয়া। একইসঙ্গে তেহরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপকে ‘দস্যুতা’ আখ্যা দিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে পিয়ংইয়ং।


মিত্রতার নতুন সমীকরণ ও পিয়ংইয়ংয়ের কড়া বার্তা

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে উত্তর কোরিয়ার এই অবস্থানকে ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বুধবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রের বরাতে এই খবর নিশ্চিত করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, উত্তর কোরিয়া কেবল নতুন নেতৃত্বকে অভিনন্দনই জানায়নি, বরং ইরানের সার্বভৌমত্বের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘একটি স্বাধীন দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন করার যে অপচেষ্টা সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো চালাচ্ছে, তা বিশ্ববাসীর প্রত্যাখ্যান করা উচিত।’ পিয়ংইয়ংয়ের মতে, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের বর্তমান কর্মকাণ্ড কোনো আইনি কাঠামোর মধ্যে পড়ে না, বরং এটি আন্তর্জাতিক মানের চরম লঙ্ঘন বা ‘গুন্ডামি’।

পশ্চিমা শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট

ইরানের শাসনব্যবস্থায় মোজতবা খামেনির উত্থান নিয়ে যখন পশ্চিমা বিশ্বে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে, তখন কিম জং উনের এই অকুণ্ঠ সমর্থন তেহরানকে মনস্তাত্ত্বিক স্বস্তি দেবে। দীর্ঘদিন ধরেই পারমাণবিক কর্মসূচি ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা দেশ দুটির মধ্যে এক ধরণের অলিখিত সামরিক ও কৌশলগত মিত্রতা বিদ্যমান। বর্তমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সেই সম্পর্ক এখন প্রকাশ্য ও জোরালো রূপ নিচ্ছে।

উত্তর কোরিয়া মনে করে, ইরানের ওপর চলমান সামরিক চাপ কেবল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাই নষ্ট করছে না, বরং এটি বিশ্বজুড়ে আধিপত্য বিস্তারের একটি নোংরা খেলা। পিয়ংইয়ং স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা তেহরানের পাশে থেকে যেকোনো বৈরী শক্তির মোকাবেলা করতে বদ্ধপরিকর।


প্রতিবেদনের মূল পয়েন্টসমূহ:

  • নেতৃত্বে স্বীকৃতি: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির প্রতি উত্তর কোরিয়ার আনুষ্ঠানিক সমর্থন।

  • কড়া সমালোচনা: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে ‘অবৈধ’ ও ‘দস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করা।

  • সার্বভৌমত্বের ডাক: যেকোনো দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ বন্ধের আহ্বান।

  • সামরিক শক্তির মহড়া: ইরানের সংকটের সমান্তরালে উত্তর কোরিয়ার নিজস্ব নৌ-শক্তির প্রদর্শনী।


ইরান সংকটের মাঝে কিমের ক্ষেপণাস্ত্র হুঙ্কার

এদিকে ইরানকে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি নিজের সামরিক শক্তি প্রদর্শনেও কোনো কার্পণ্য করছে না উত্তর কোরিয়া। বুধবারের রিপোর্ট অনুযায়ী, কিম জং উন দেশটির সর্বাধুনিক ও বৃহত্তম নৌ ধ্বংসকারী যুদ্ধজাহাজ ‘চো হিওন’ থেকে কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা ব্যক্তিগতভাবে তদারকি করেছেন। এটি ছিল এই ডেস্ট্রয়ার থেকে দ্বিতীয় দফার সফল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা কেবল কারিগরি মহড়া নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক বার্তাও। যখন বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজর ইরানের দিকে, তখন কিম জং উন বুঝিয়ে দিলেন যে উত্তর কোরিয়া যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।