বহুল আলোচিত ব্রেক্সিট নিয়ে এমপিদের বিকল্প প্রস্তাবের ভোটাভুটি আজ। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেছেন ব্রেক্সিট বিষয়ে কোনো পরিবর্তন না আসলে তার আরও কিছু মন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হবেন। তার এই বক্তব্যর পর সেই বিষয়ে বিকল্প প্রস্তাবের পরিকল্পনা করছে দেশটির এমপিরা।
এছাড়া আইন প্রণেতারা ব্রেক্সিট বিষয়ে প্রস্তাবের উপর বিভিন্ন মতামত দেয়ার সুযোগ পাবেন। আজ বুধবার হাউস অব কমন্সে ব্রেক্সিট ভোটাভুটির হওয়ার কথা রয়েছে।
সাবেক এক পররাষ্ট্রসচিব বিবিসিকে বলেন, কোনো চুক্তি ছাড়া এই আলোচনায় যুক্তরাজ্য নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করছে—থেরেসা মের এমন বিষয়কে কোনো কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না। তা না হলে দেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য ইইউর চুক্তিতে বাঁধা পড়বে। সাবেক এক মন্ত্রী বলেন , প্রধানমন্ত্রীকে এখন একটি ‘ভিন্ন পথ’ খুঁজে নিতে হবে। সাবেক ব্রেক্সিট সচিব ডেভিড ডেভিস এতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়ার আশঙ্কা আছে বলেও সতর্ক করেন।
গত সোমবার ব্রেক্সিট বিষয়ে বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে সংসদের মতামত যাচাইয়ের উপর ভোটাভুটি হয়। সে সময় পার্লামেন্টের কাছে পরাজিত হন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। ব্রেক্সিট বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য আইনপ্রণেতারা সংসদীয় কার্যবিধির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। এতে কার্যত ব্রেক্সিট প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ এখন পার্লামেন্টে চলে গেছে।
যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সরকারের কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়ার ঘটনা এই প্রথম। ওই ভোটাভুটিতে ৩২৯ জন আইনপ্রণেতা এর পক্ষে ভোট দেন। আর বিপক্ষে ছিলেন ৩০২ জন।
অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে সংসদে বলেন নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেয়াটা খুব খারাপ হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। তিনি বলেন,এই চেষ্টা সফল হলে তা ক্ষমতার নীতিতে খারাপ দৃষ্টান্ত তৈরি করবে। তিনি আরও বলেন, সংসদ ব্রেক্সিট নিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে,যা সরকারের ইশতেহারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তাতে রাজি হবে না। সরকার সংসদের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য নয় বলেও জানিয়ে দেন মে।
এছাড়াও, সংসদে মতামত যাচাইয়ের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ভোটাভুটি আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। কিন্তু সর্বদলীয় ওই প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিতে আস্থা রাখতে পারছেন না বলে জানান সমর্থকেরা। এর কারণ দেখিয়ে তারা বলেন, ব্রেক্সিটের সম্ভাব্য বিকল্পগুলো নিয়ে আইনপ্রণেতাদের মতামতের সুযোগ গত আড়াই বছরেও দেননি প্রধানমন্ত্রী।

