গত কার্যদিবসগুলোতে ১৫৬ পয়েন্ট পড়ে যাওয়ার পর গতকাল প্রায় ৩৬ পয়েন্ট বেড়েছে ঢাকার শেয়ারবাজারের ব্রড ইনডেক্স ডিএসইএক্স। দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে সব সূচকে পয়েন্ট যোগ হওয়ার পাশাপাশি বেড়েছে লেনদেনও। সিংহভাগ কোম্পানির দরবৃদ্ধিতে শুধু টেলিযোগাযোগ ছাড়া সব খাতের বাজার মূলধন বেড়েছে।
বিনিয়োগকারী ও বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ব্যাংক ও এনবিএফআই (ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান) কর্তৃক ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার প্রাথমিক পদক্ষেপ পুঁজিবাজারে তারল্যপ্রবাহ সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের কিছুটা হলেও আশ্বস্ত করেছে। এমন পরিস্থিতিতে যেসব খাতের আউটলুক ইতিবাচক, দরপতন-পরবর্তী দামে সেসব খাতের কিছু ভালো শেয়ারে ক্রয়াদেশ বাড়িয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এতে লেনদেনের শুরু থেকেই শেয়ারবাজারে সূচক বাড়তে থাকে। দিনের মধ্যভাগে প্রায় ৫ হাজার ৩৩৫ পয়েন্টে উন্নীত হওয়ার পর বিক্রয়াদেশ কিছুটা বাড়তে থাকে। মূলত সমন্বয়ের চাপে বাকি সময় সূচকটি কিছুটা নিম্নমুখী ছিল। শেষ পর্যন্ত ৫ হাজার ৩০৯ পয়েন্টে দাঁড়ায় ডিএসইএক্স, যা আগের দিনের চেয়ে দশমিক ৬৮ শতাংশ বেশি।
আগের দুদিন সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট হারানো ডিএস ৩০ গতকাল ঘুরে দাঁড়ানোর সময়ও তুলনামূলক দুর্বল ছিল। দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়ে দিনশেষে ১ হাজার ৯০২ পয়েন্টে উন্নীত হয় ব্লু-চিপ সূচকটি। বিপরীতে দশমিক ৭২ শতাংশ বেড়েছে শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস।
ডিএসইতে গতকাল কেনাবেচা ১৮ শতাংশ বেড়ে ৭৪১ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। সেখানে হাতবদল হওয়া কোম্পানি, করপোরেট বন্ড ও মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে দিন শেষে দর বেড়েছে ২০৭টির, কমেছে ৮৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪৩টির বাজারদর।
খাতভিত্তিক চিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, বস্ত্র, সিরামিক, বিদ্যুৎ-জ্বালানি, প্রকৌশল ও ভ্রমণ-অবকাশ খাতের কোম্পানিগুলোর বাজার মূলধন ১ থেকে ৩ শতাংশ হারে বেড়েছে। বিপরীতে শুধু টেলিযোগাযোগ খাতের বাজার মূলধন শূন্য দশমিক ৩৭ শতাংশ কমেছে।
গতকাল দেশের আরেক শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন ৩৫ থেকে ৬৩ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। সেখানে সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ৮৯৩ পয়েন্টে দাঁড়ায় ব্রড ইনডেক্স সিএসসিএক্স। ব্ল-চিপ সূচক সিএসসি ৩০ আগের দিনের চেয়ে মাত্র দশমিক ১২ শতাংশ বেড়েছে। শরিয়াহ সূচক সিএসআই বেড়েছে দশমিক ৪৮ শতাংশ।
চট্টগ্রামের বাজারে হাতবদল হওয়া ২৪২টি সিকিউরিটিজের মধ্যে দিন শেষে দর বেড়েছে ১৪০টির, কমেছে ৬৮টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৪টির।
লেনদেনের ভিত্তিতে (টাকায়) ডিএসইতে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল বসুন্ধরা পেপার, মুন্নু সিরামিকস, ইউনাইটেড পাওয়ার, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, আরএসআরএম স্টিল, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রাইম টেক্স, সিনোবাংলা ও ড্রাগন সোয়েটার।
দরবৃদ্ধির তালিকায় সবার উপরে ছিল দেশবন্ধু পলিমার, সিনোবাংলা, বসুন্ধরা পেপার, প্রাইম টেক্স, ন্যাশনাল ফিড মিল, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, এইচআর টেক্স, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, রংপুর ফাউন্ড্রি ও আরএন স্পিনিং।
