এ বছর ৫ শতাংশ বাড়বে কয়লার বৈশ্বিক ব্যবহার



জ্বালানি হিসেবে কয়লা ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। এশিয়ার দেশগুলোয় বাড়তি ব্যবহারের ওপর ভর করে চলতি বছর তাপ কয়লার (থার্মাল কোল) বৈশ্বিক ব্যবহারে প্রবৃদ্ধি দেখা যেতে পারে। এ সময় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি পণ্যটির সম্মিলিত ব্যবহারের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে হংকংভিত্তিক স্বনামধন্য ট্রেডিং হাউজ নবেল গ্রুপ লিমিটেড।
প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০১৮ সালে বিশ্বব্যাপী তাপ কয়লার সম্মিলিত ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৯৭ কোটি ৪০ লাখ টনে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ কোটি ৮০ লাখ টন বেশি। ভারতের গোয়ায় কয়লাবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে নবেল গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক রদ্রিগো একেভেরি বলেন, কয়লার আন্তর্জাতিক বাজারে ২০১৮ সাল আরেকটি ইতিবাচক বছর হিসেবে দেখা দেবে। এ সময় পণ্যটির বৈশ্বিক ব্যবহারে প্রবৃদ্ধির দেখা মিলবে। এর জের ধরে চলতি বছর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যটির দাম আগের তুলনায় বাড়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
নবেল গ্রুপের এক নোটে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোয় বাড়তি ব্যবহার কয়লার বাজারকে গতিশীল রাখতে প্রধান ভূমিকা পালন করবে। শীর্ষ ভোক্তা দেশ চীনে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি শিল্প ও অবকাঠামো নির্মাণ খাতের প্রবৃদ্ধি চলতি বছর কয়লার অভ্যন্তরীণ ব্যবহার বাড়াবে। একই সঙ্গে ভারতের ইস্পাত উৎপাদন খাতে প্রবৃদ্ধির গতি প্রত্যাশার তুলনায় বেশি রয়েছে। এর জের ধরে ২০১৮ সালে ভারতের ইস্পাত উৎপাদন খাতেও জ্বালানি হিসেবে বাড়তি কয়লা ব্যবহার হবে।
একই সঙ্গে এ সময় পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোয় জ্বালানি পণ্যটির ব্যবহারে প্রবৃদ্ধি দেখা যেতে পারে। ভারতের পণ্যবাজারবিষয়ক বিশ্লেষক ভিকে অরোরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের হার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে পশ্চিমের দেশগুলো কয়লার ব্যবহার কমাতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এশিয়ার দেশগুলো এ বিষয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন নীতি নিয়েছে। এ অঞ্চলের দেশগুলোয় জ্বালানি পণ্যটির ব্যবহার, উত্তোলন ও আমদানি ক্রমে বাড়ছে। ফলে আগামী দিনগুলোয় কয়লার বৈশ্বিক বাজার পশ্চিমের সীমানা ছাড়িয়ে পূর্বমুখী হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে কয়লা রফতানিকারক দেশগুলোর তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়া ২০১৭ সালে জ্বালানি পণ্যটির রফতানিতে নতুন রেকর্ড করেছে। এ সময় কয়লা রফতানি বাবদ দেশটির আয় আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের (এবিএস) বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়া থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যটির রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৭ কোটি ২০ লাখ টনে। এ সময় জ্বালানি পণ্যটির রফতানি বাবদ দেশটি মোট আয় করেছে প্রায় ৫ হাজার ৬৫০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার (৪ হাজার ৪২১ কোটি মার্কিন ডলার)। কয়লা রফতানি বাবদ এটাই অস্ট্রেলিয়া সরকারের সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড।
এর আগে ২০১১ সালে জ্বালানি পণ্যটি রফতানি বাবদ সর্বোচ্চ আয় করেছিল অস্ট্রেলিয়া। সে সময় কয়লা রফতানি বাবদ দেশটির আয় দাঁড়িয়েছিল ৪ হাজার ৬৭০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলারে। সে হিসাবে আগের রেকর্ডের তুলনায় ২০১৭ সালে কয়লা রফতানি বাবদ দেশটি অতিরিক্ত ৯৮০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার আয় করেছে। মূলত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ক্রমবিকাশমান কয়লার বাজারকে কেন্দ্র করে গত বছর অস্ট্রেলিয়া থেকে জ্বালানি পণ্যটির রফতানিতে তেজিভাব দেখা গেছে।