কিছুদিন আগে জাতীয় লিগের এক ম্যাচে স্পিন বল করেছিলেন মুশফিক। তিন ওভার অফস্পিন করে আবাক করেছিলেন ক্রিকেট পাড়া।
উইকেটের পিছনে থাকা সদা চঞ্চল মুশফিকুর রহীম যে শুরুতে ছিলেন ফাস্ট বোলার, তা হয়ত জানেন না অনেকেই।
বিকেএসপিতে পরীক্ষা দিতে আসার সময়ও নিজের ছোটখাটো গড়ন নিয়ে করতে চেয়েছিলেন পেস বোলিং। যদিও শেষপর্যন্ত আর পেসার হয়ে ওঠা হয়নি মুশফিকের।
তবে মুশফিক হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের অন্যতম ভরসা, ব্যাট হাতে দেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান।
নিজের ক্যারিয়ারের এই অজানা গল্পটা মুশফিক জানিয়েছেন নিজেই। শনিবার রাতে লকডাউনের অফুরান অবসর কাঁটাতে তামিম ইকবালের সঙ্গে এক ইন্সটাগ্রাম লাইভে যোগ দিয়েছিলেন মুশফিক। সেখানেই তার কাছ থেকে পেস বোলিংয়ের গল্পটা বের করে আনেন তামিম।
কথাপ্রসঙ্গে তামিম বলেন, ‘অনেকে এটা জানে না যে তুই (মুশফিক) পেস বোলিং করতি। তাও আবার তোর বোলিং স্টাইল ছিল স্টিভ হার্মিসনের মত। ওর চেয়েও বড় রানআপ ছিল। আমার মনে আছে, খুব সম্ভবত অনূর্ধ্ব-১৫ এর এক প্র্যাকটিস ম্যাচে তুই পেস বোলিংও করেছিলি খুব সম্ভবত, বিকেএসপির ২ নম্বর মাঠে।’
তামিম এ প্রসঙ্গ আনতেই স্মৃতির ঝাপি খুলে দেন মুশফিক। ছোটখাট গড়নের মুশফিক যে পেস বল করবে, এ নিয়ে অবাক হতেন অনেকেই।
মুশফিক বলেন, ‘বোলিং করতাম কারণ তখন (ছোটবেলায় এলাকার ক্রিকেটে) চেষ্টা করতাম যতদিক থেকে অবদান রাখা যায়। কিপিং সেভাবে করতাম না। বিকেএসপির কোচরাও তখন আমাকে বলতেন, ‘এই উচ্চতা নিয়ে পেস বোলার হতে চাও, পাগল নাকি?’ পরে একটা ম্যাচে আমাদের মূল কিপার ছিল না ইনজুরির কারণে। আমি কিপিং করলাম, ভালোবেসে ফেললাম।’
শুধু পেস বোলিংই করতেন না মুশফিক। তার ইচ্ছা ছিল মূলত ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় হওয়ার। কিন্তু বিকেএসপিতে তখন ব্যাডমিন্টনের তেমন সুযোগ-সুবিধা না থাকায় পরীক্ষা দেন ক্রিকেট-ফুটবলে; টিকে যান দুটিতেই। সেখান থেকেই বেছে নেন ক্রিকেটকে।
মুশফিক বলেন, ‘আমার আসলে ক্রিকেটের চেয়েও বেশি প্রিয় ছিল ব্যাডমিন্টন। অনেক ভালো লাগত। কিন্তু তখন বিকেএসপিতে ব্যাডমিন্টন ছিল না। আমি ক্রিকেট-ফুটবল; দুটিতেই চান্স পেয়েছিলাম। পরে ক্রিকেটেই গেলাম। লারা আমার প্রিয় ছিল খুব, তার মতো ব্যাটিং করতে ইচ্ছে হতো। আমার ভাইরাও সব ক্রিকেট খেলত। সবমিলিয়ে ক্রিকেটেই গেলাম।’

