করোনাভাইরাসে থমকে গেছে স্পেন। গত একমাসে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিনতম সময় পার করেছে ইউরোপের দেশটি। আর এই এক মাস ফুটবল মাঠে গড়ানোর সুযোগ পায় নি।
পাবে কি করে? মৃত্যুর মিছিলে যে আর খেলা শুরু করা যায় না! দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ২৭ জন। মৃত্যু বরণ করেছে ১৬ হাজার ৯৭২ জন মানুষ। গত একমাসেরও বেশি সময় দেশটিতে রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থা জারি করা রয়েছে।
ফুটবল বন্ধ হওয়ার আগে ১০ মার্চ ইপুরুয়ায় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল রিয়াল সোসিয়েদাদ এবং এইবারের মধ্যে। ফাঁকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে এইবারকে হারায় রিয়াল সোসিয়েদাদ। ওই রাতে তার আগেই মেসটালায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল ভ্যালেন্সিয়া এবং আটলান্টার মধ্যকার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই ম্যাচটাও ছিল ক্লোজডোর স্টেডিয়ামে।
ফুটবল নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত দেশ হচ্ছে স্পেন। বিশ্বের সেরা লিগ লা লিগা তাদের দেশে। বছর-মাস কেন, প্রতিটিদিন জুড়েই অসংখ্য ফুটবলীয় কার্যক্রম চলতে থাকে দেশটিতে। কিন্তু গত এক মাসে সবই বন্ধ। পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে দেশটির ফুটবলের কার্যক্রম।
করোনাভাইরাসের এই মহামারি চলাকালেই মৌসুমের বাকি অংশ কিভাবে শেষ করা যায়, তা নিয়ে তুমুল আলোচনা এবং বিতর্ক তৈরি হয়েছে স্পেনে। এর মধ্যে তৈরি হয়েছে তিনটি পক্ষ। লা লিগা কর্তৃপক্ষ, স্প্যানিশ ফুটবলার্স অ্যাসোসিয়েশন (এএফই) এবং রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ)।
এএফই এবং আরএফইএফের মধ্যে একটি বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে ইতিমধ্যে। মৌসুম শুরু হলে প্রতিটি ম্যাচের ব্যবধান অন্তত ৭২ ঘণ্টা করে রাখতে হবে।
করোনার কারণে বন্ধ হয়ে থাকার পর গত একমাসে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক কর্তন। বার্সেলোনা, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, সেভিয়া, আলাভেস, এস্পানিওল- প্রতিটি ক্লাবই দুর্যোগকালীন সময়ে পারিশ্রমিক সম্পর্কিত যে নীতি এবং কর্তৃপক্ষ রয়েছে তাদের কাছে আবেদন পেশ করেছে। সর্বশেষ রিয়াল মাদিদও খেলোয়াড়দের সঙ্গে ১০ ভাগ বেতন কাটার বিষয়ে চুক্তি করে ফেলেছে।

