এলএনজি আমদানিতে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রচেষ্টা: ড. সালেহউদ্দিন



অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকার কোনো একক উৎস থেকে নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে তুলনা করে এবং চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন উৎস থেকে এলএনজি আমদানি করছে। তিনি বলেন, “আমরা কোনো একক উৎসের উপর নির্ভর করছি না। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, সৌদি আরব বা অন্য কোনো দেশ থেকে হোক, আমরা আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে তুলনা করে এলএনজি সংগ্রহ করছি। এটি এত সহজ নয় যে আমরা শুধু একটি উৎস থেকে আমদানি করব।”

মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থনৈতিক বিষয় ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির দুটি পৃথক বৈঠকের সভাপতিত্ব শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ড. সালেহউদ্দিন জানান, সরকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নিরলস কাজ করছে এবং একই সঙ্গে কর আদায় বাড়ানোর উপর জোর দিচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছি। কর আদায় বাড়ানোর মাধ্যমে আমরা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছি।”

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের (ইউএসটিআর) চলমান বাংলাদেশ সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক দূরত্ব কমানোর উপর জোর দিচ্ছি। বর্তমানে আমরা এ বিষয়ে কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি, কারণ বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস পাচ্ছে।” তিনি জানান, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ঘাটতি ৭.৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে, যা পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি পণ্য আমদানির প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি করলে খরচ কিছুটা বাড়তে পারে, তবে গুণমানের বিষয়টি এখানে গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানি করলে খরচ বাড়লেও এর মান অনেক উন্নত। বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে আমাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পণ্য আমদানি করতে হবে।”

মুদ্রাস্ফীতি এবং ভোক্তাদের উপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এই পদক্ষেপগুলো মুদ্রাস্ফীতি বা রপ্তানির উপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। ভোক্তাদের উপরও তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। সরকার ট্রেডিং কর্পোরেশন অফ বাংলাদেশ (টিসিবি) এর মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষদের সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করছে।” তিনি জানান, টিসিবির মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ১ কোটি পরিবার ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাচ্ছে।

ড. সালেহউদ্দিন আরও বলেন, আমদানি, রপ্তানি এবং স্থানীয় সরবরাহ চেইনে স্বাভাবিক প্রবণতা বজায় রয়েছে। তবে, তিনি উল্লেখ করেন, “পাইকারি ও খুচরা বাজারে এখনও কিছু সমস্যা রয়েছে, কারণ এগুলো প্রায়শই অর্থনৈতিক যুক্তির বাইরে চলে যায়। তবে, খাদ্য বহির্ভূত মুদ্রাস্ফীতির হার কমেছে, যা সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতিকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে।” তিনি জানান, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে মুদ্রাস্ফীতির হার ৬% এর নিচে নামার সম্ভাবনা রয়েছে।