ওয়াল স্ট্রিটের প্রভাবে এশিয়ার শেয়ারবাজারে পতন



এশিয়ার শেয়ারবাজার শুক্রবার আবারো পতন প্রত্যক্ষ করছে। এর মধ্যে চীনা ইকুইটির জন্য এটি ছিল দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বাজে দিন। যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমিয়ে দেবে— এ আশঙ্কায় এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হয়।
মার্কিন সিনেটে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ব্যয় তহবিল নিয়ে দুই বছরের চুক্তি সম্পন্ন হয় বৃহস্পতিবার। এদিন মধ্যরাতের মধ্যে চুক্তিটি অনুমোদনের সর্বশেষ সময় ছিল। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে চুক্তিতে কংগ্রেস অনুমোদন দিতে ব্যর্থ হলে শেয়ারবাজারে খুব সীমিত প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এর মধ্যে এসঅ্যান্ডপি মিনি ফিউচারসে সীমিত ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়। সর্বশেষ এটি দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছিল। অবশ্য নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর পৌঁছায় কংগ্রেস। আগামী ২৩ মার্চ পর্যন্ত সরকারি কার্যক্রম সচল রাখার মতো বাজেটের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
স্প্রেডবেটাররা ধারণা করেছিলেন ইউরোপের বাজারগুলোয় নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হবে। তারা ব্রিটেনের এফটিএসইতে দশমিক আট শতাংশ, জার্মানির ড্যাক্স দশমিক ২ শতাংশ এবং ফ্রান্সের সিএসিতে দশমিক ২ শতাংশ দরপতনের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। প্রসঙ্গত, শেয়ারের ওঠানামার উপরে স্প্রেডবেটাররা বাজি ধরে থাকেন।
বৈশ্বিক বাজারে দরপতনের মধ্যে চীনের ইকুইটি সবচেয়ে চাপে রয়েছে। দেশটির চান্দ্র নববর্ষের ছুটির আগে বিনিয়োগকারীরা নগদ অর্থ হাতে রাখতে চাইছে। ফলে চীনের ইকুইটিগুলো নিম্নমুখী থাকতে দেখা গেছে। চীনা শেয়ারবাজারের মধ্যে সাংহাই কম্পোজিট ইনডেক্সে ছয় শতাংশ দরপতন লক্ষ্য করা যায়; এটি ছিল ২০১৭ সালের মে মাসের পর সবচেয়ে বেশি দরপতন। ব্লুচিপ কোম্পানিগুলোর সমন্বিত সিএসআই৩০০ সূচকটিতে ৬ দশমিক ১ শতাংশ পতন লক্ষ্য করা যায়। উভয় সূচকটিই ফেব্রুয়ারি ২০১৬ সালের পর একদিনে সবচেয়ে বড় লোকসানের মুখোমুখি হয় এদিন।
হংকংয়ে সোসিয়েতে জেনারিলের এশিয়া ইকুইটি কৌশল বিভাগের প্রধান ফ্রাঙ্ক বেঞ্জিমরা বলেন, চীনের শেয়ারবাজারের দরপতনের পেছনে শুধু যুক্তরাষ্ট্র দায়ী নয়, দেশটির অভ্যন্তরীণ কিছু কারণও রয়েছে। তিনি বলেন, চীনের ইকুইটিতে ‘দুটি কারণে পতন হয়েছে। দেশটির ভোক্তাপণ্য সংশ্লিষ্ট শিল্পে মূল্যায়ন ও আর্থিক খাতে ঋণ অনুপাত হ্রাস।’
চীন ছাড়াও এশিয়ার অন্যান্য দেশের শেয়ারবাজারেও পতন লক্ষ্য করা গেছে। জাপানের নিক্কেইতে ২ দশমিক ৯ শতাংশ পতন হয়; এটি ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারির পর সবচেয়ে বড় দরপতন। জাপান বাদে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সমন্বিত সূচক এমএসসিআইতে দুই মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন হয় (দুই দশমিক দুই শতাংশ)। সূচকটি গত ২৯ জানুয়ারি রেকর্ড উচ্চতায় ছিল। কিন্তু টানা ছয়দিন ধরে সূচকটি পতনে রয়েছে এবং চলতি সপ্তাহে সূচকটিতে আরো ৭ দশমিক ৬ শতাংশ পতন হতে পারে।
টোকিওতে সুমিতমো মিতসুই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের জ্যেষ্ঠ কৌঁসুলি মাসাহিরো ইচিকাওয়া বলেন, ‘ইকুইটির এই সংশোধন বা ওঠানামার অধ্যায় ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত চলবে এবং সম্ভবত তা মার্চেও গড়াতে পারে। এ পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ বিক্রি করে দিতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর ধারণা বাস্তবায়িত হলে পরিস্থিতি আবারো অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।’
যুক্তরাষ্ট্র এখনো বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে দরপতনের কেন্দ্রে অবস্থান করছে। ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ারবাজারে ডাও জোনস ৪ দশমিক ১ শতাংশ এবং এসঅ্যান্ডপি৫০০ ৩ দশমিক ৭ শতাংশ পতন দেখেছে। বৃহস্পতিবারের পতন যোগ করলে এ সূচক দুটিতে ২৬ জানুয়ারির রেকর্ড উচ্চতা থেকে ১০ শতাংশ পতন হয়েছে।
বন্ডের উচ্চ ইল্ডের কারণে কোম্পানিগুলোর ঋণ ব্যয় বেড়ে গেছে; যা শেয়ারবাজারে প্রভাব ফেলেছে। এ কারণে কোম্পানিগুলোর মধ্যে ঝুঁকি গ্রহণের আগ্রহ কমেছে। শুধু তা-ই নয়, কোম্পানিগুলো এখন ইকুইটি থেকে বন্ডে তহবিল বিনিয়োগে ইচ্ছুক বিনিয়োগকারীদের সামনে নতুন বিকল্প হাজির করছে।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে দশ বছর মেয়াদি ট্রেজারি নোটের ইল্ড ২ দশমিক ৮৮৪ শতাংশ বেড়ে যায়। সোমবার ইল্ড পৌঁছেছিল চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ (২ দশমিক ৮৮৫ শতাংশ)। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ট্রেজারির ইল্ড দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৮৩১ শতাংশ।