গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়লেও প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের হটস্পট হয়ে উঠে ইউরোপের দেশ ইতালি। দেশটিতে মারণ এই ভাইরাসে প্রাণ হারিয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়েও অনেক মানুষ।
কিন্তু কবরের জায়গা সংকট তাদের শোকের পরিমাণটা যেন বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ। ইমাম ও মুসলিম কমিউনিটির নেতারা কর্তৃপক্ষের কাছে আরো বেশি ইসলামিক কবরস্থানের জায়গা চাচ্ছেন।
এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
মিলানের একটি মসজিদের ইমাম আব্দুল্লাহ টিসিনা এএফপিকে বলেন, ‘মহামারি সময়ের অভিজ্ঞতাটা আমরা অনুভব করতে পেরেছি। তবে এটা কখনো কখনো আরো গভীর, যখন কিছু পরিবার তাদের মৃত স্বজনকে কবর দেওয়ার জায়গা পায় না। কেননা শহর অঞ্চলের সমাধিস্থানগুলোতে মুসলিমদের জন্য কোনো অংশ বরাদ্দ নেই।’
ইতালিতে মুসলমানের সংখ্যা প্রায় ২৬ লাখ, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪.৩ শতাংশ। তাদের বেশির ভাগেরই বাস দেশটির উত্তর দিকে। তাদের ৫৬ শতাংশই বিদেশি নাগরিকত্বধারী, যাদের অনেকেই এসেছেন উত্তর আফ্রিকা বা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে।
তবে এই করোনাভাইরাস সংকটের মধ্যে যেসব মুসলমানের মৃত্যু হয়েছে তাদের কতজন ইতালিয়ান বা কতজন বিদেশি নাগরিক এ ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে এএফপি।
ইতালিতে করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত ৩৪ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর বেশির ভাগই উত্তরের শহর লম্বর্দি অঞ্চলের। দেশটিতে আক্রান্ত ছাড়িয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার। অবশ্য গত কিছুদিন ধরে পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিকের দিকে এগোচ্ছে।
ইতালিতে মুসলমানদের দাফন ব্যবস্থা জটিলই বটে। করোনা মহামারির আগে কেউ মারা গেলে মৃতদেহগুলো তাদের নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হতো অথবা দেহগুলো দিনের পর দিন মর্গে ফেলে রাখা হতো। অনেক ক্ষেত্রে কবরের জায়গা খোঁজার আগ পর্যন্ত মৃতদেহ ঘরেই রাখতে হতো। যদিও ইসলামি রীতি অনুযায়ী, কারও মৃত্যু হলে যত দ্রুত সম্ভব মৃতদেহ কবর দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

