দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ বাদে ১১টি দেশেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত কোনো রোগী নেই। তবে আমরা করোনাভাইরাসের ঝুঁকিতে আছি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ।
রোববার (৮ মার্চ) সকালে রাজধানীর মহাখালীতে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডায়রিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) সাসাকাওয়া মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) থেকে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়েছে। গত ১৯ দিনে এ রোগীর সংখ্যা ১০ গুণ বেড়েছে। ইতালিতে কয়েকদিনে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে।
ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, দেশে যদি একবার করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। তাহলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। সেজন্য আমাদের প্রস্তুতিও রয়েছে। এ জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে আমরা চারটি লেভেলে ভাগ করেছি।
লেভেল- ১ কে অ্যালার্ট লেভেল বলছি। লেভেল-২ যখন কোনো করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাবে। তখন আমাদের কি করতে হবে। কোন পরিকল্পনায় এগুতে হবে সেই বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। লেভেল-৩ এ যদি করোনাভাইরাস ব্যাপক আকারে দেশের ছড়িয়ে পড়ে তাহলে আমাদের কি করনীয়। লেবেল- ৪ এ সার্বিক পরিস্থিতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবো সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে যদি কোনো দেশ নিজ ইচ্ছায় তথ্য দেয় তখন তারা তথ্য আপডেট করে। আমাদের দেশে গণস্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয় একটি ওয়েবসাইট রয়েছে সেখানে প্রতিনিয়তই নতুন নতুন তথ্য সংযোজন করছে তারা।
সবশেষ তথ্য অনুয়ায়ী বিশ্বের ১০২টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়ে তিন হাজার ৬০০ জন মানুষ মারা গেছেন। এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখ চার হাজার ৯৪ জন মানুষ। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৬০ হাজার ১৯০ জন।

