দুই সপ্তাহ আগে দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে পণ্যটির বাজার পরিস্থিতি বদলেছে। স্থানীয় বাজারে তিনদিনের ব্যবধানে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ৪ টাকা কমেছে। একই ভাবে দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের দামও কমেছে কেজিতে ২ টাকা। রোজাকে কেন্দ্র করে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার জের ধরে খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
গতকাল খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারের আড়তগুলো ঘুরে ভারতের নাসিক অঞ্চল থেকে আমদানি করা প্রতি কেজি পেঁয়াজ মানভেদে ২৬-২৯ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। তিনদিন আগেও এ পেঁয়াজের দাম ছিল ৩০-৩২ টাকা। সে হিসাবে তিনদিনের ব্যবধানে এ পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে সর্বোচ্চ ৪ টাকা। একইভাবে ইন্দোর থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয় কেজিপ্রতি ২৬-২৭ টাকায়। তিনদিনের ব্যবধানে পণ্যটির দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ৩ টাকা কমেছে। পাটনা থেকে আমদানি করা প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২৫-২৬ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। তিনদিনের ব্যবধানে পণ্যটির দাম কমেছে কেজিতে সর্বোচ্চ ৩ টাকা। অন্যদিকে স্থানীয় বাজারে আমদানি করা সুখসাগর পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ২৩-২৪ টাকায় বিক্রি হয়। তিনদিন আগেও পণ্যটি কেজিপ্রতি ২৭-২৮ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। সে হিসাবে তিনদিনের ব্যবধানে পণ্যটির দাম কমেছে কেজিতে সর্বোচ্চ ৪ টাকা।
আমদানি করা পেঁয়াজের পাশাপাশি খাতুনগঞ্জ বাজারে দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের দামও কমতে শুরু করেছে। গতকাল দেশে উৎপাদিত প্রতি কেজি পেঁয়াজ মানভেদে বিক্রি হয় ৪১-৪২ টাকায়। তিনদিন আগেও পণ্যটি মানভেদে ৪৩-৪৪ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। সে হিসাবে তিনদিনের ব্যবধানে দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২ টাকা কমেছে। প্রতি বছরের মতো এবারো রোজায় বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজ সরবরাহ বেড়েছে। মূলত এ কারণে পণ্যটির দাম আগের তুলনায় কমে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় মেসার্স নেওয়াজ ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মো. শাহনেওয়াজ জানান, অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের জন্য ভারত থেকে সিংহভাগ পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। কিছুদিন ধরে ভারতের বাজারে রফতানিযোগ্য পেঁয়াজের দাম তুলনামূলক কম রয়েছে। ফলে দেশীয় আমদানিকারকরা কম দামে পেঁয়াজ আমদানি করতে পারছেন। এ কারণে বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় গত মার্চ থেকে পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল ছিল। তবে চলতি মাসের শুরুতে বৌদ্ধ পূর্ণিমা, শবেবরাত ও মে দিবস কেন্দ্র করে টানা ছুটিতে পেঁয়াজ আমদানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গিয়েছিল। সেই সময় সরবরাহ সংকট থেকে পাইকারি বাজারে পণ্যটির দাম বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে আমদানি ও সরবরাহ আগের তুলনায় বেড়ে যাওয়ায় পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে।
