‘আমার এটা বলতে কোনো লজ্জাই নেই যে, আমার মনে হয় প্রকাশ করা উচিত, ২-৩ বছর আগে যখন আমি বিরাট কোহলিকে দেখেছি জিমে কাজ করতে, রানিং ও অন্য সবকিছু, নিজেকে নিয়ে লজ্জা হতো আমার। সত্যিই নিজেকে নিয়ে লজ্জা লাগত।’ ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফোয় ধারাভাষ্যকার সঞ্জয় মাঞ্জরেকারের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল।
তামিম আরও বলেন, ‘এই ছেলেটি, সম্ভবত আমার বয়সীই, এই ধরনের কাজ করছে, এত ট্রেনিং করছে ও সাফল্য পাচ্ছে, আমি হয়তো তার অর্ধেকও করছি না। তার পর্যায়ে যেতে না পারি, অন্তত তার পথ তো অনুসরণ করার চেষ্টা করতে পারি। হয়তো তার ৫০ ভাগ, ৩০-৪০ বা ৬০ ভাগ, যেটাই হোক… (হতে পারব)’
বিশ্বকাপে তামিম ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারেননি। এজন্য তাকে পড়তে হয় প্রবল সমালোচনার মুখে। এরপর ভেঙে পড়েন দেশসেরা এই বাঁহাতি ওপেনার। শেষ পর্যন্ত নিজেকে গুটিয়ে নেন তামিম।
এরপর নিজেকে ঝরঝরে করে ফেরেন নতুন রুপে। এই বদলে যাওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত হয়েছেন ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে দেখে।
বিশ্বকাপের পরে নিজেকে আরও ঝরঝরে করতে তামিম চলে যান থাইল্যান্ড। নিজকে ফিট করার চেষ্টা করেন একান্তে। ফলও পেয়েছেন হাতেনাতে। প্রায় ছয়-সাত কেজি ওজন কমিয়ে আরও ঝরঝরে হয়েছেন।
আগের তামিমের সঙ্গে তুলনা করতে গিয়ে তামিম জানান, ২০১৫ বিশ্বকাপ থেকে তার শরীরের ওজন এখন ৯ কেজি কম।
তামিম বলেন, ‘এখন যদি আপনি ২০১৫ সালের আমাকে দেখেন, সেখান থেকে আমার ওজন ৯ কেজি কমেছে। ওই সময়টায় ফিটনেস নিয়ে অনেক খাটতে শুরু করেছি আমি। কৃতিত্ব দিতে হবে আমাদের ট্রেইনারকেও।’
ভারতীয় ক্রিকেটারদের অনেক কিছুই অনুসরণ করার কথা জানান বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক। এছাড়া বাংলাদেশ দলের মধ্যে মুশফিকের ফিটনেসের প্রশংসা করেন তামিম। তার মতে মুশফিক হতে পারেন দেশের তরুণদের জন্য অনুকরণীয়।
তামিম বলেন, ‘আমাদের দলেও দারুণ একজন উদাহরণ আছে, মুশফিকুর রহীম। আমি তার ক্রিকেটীয় দিকে যাব না, ফিটনেসের দিক থেকে সে নিজেকে যেভাবে সামলায়, সেটা বলছি। সে এমন একজন, যাকে অনুসরণ করা যায়। হ্যাঁ, বিরাট কোহলি অবশ্যই উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। মুশফিকও বাংলাদেশ দলে অনেক তরুণ ক্রিকেটারের আদর্শ হতে পারে।’

