গত ১৫ মার্চ বন্দুকধারীর হামলায় ৫০ জন নিহত হওয়ার পর শুক্রবার থেকে ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদটি খুলে দেওয়া হচ্ছে।
আগের মতোই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গত বৃহস্পতিবার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে মসজিদ টি পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে।
সেই অনুযায়ী শুক্রবার থেকে আবারো এর কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এর জন্য শুধুমাত্র একসাথে ১৫ জনকে ভিতরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়। নিরাপত্তা ও তদন্তের কারণে আল নুর মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল পুলিশ। তবে পুরোপুরি সবার জন্য কখন উন্মুক্ত করা হবে সে বিষয়ে মসজিদ কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করেনি।
গতকাল জুমার নামাজের আগে আল নুর মসজিদের সামনে প্রায় ২০ মিনিট বক্তব্য দেন ইমাম গামাল ফাওদা।
১৫ মার্চ পবিত্র জুমার নামাজের সময় নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নুর ও লিনউড মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন ৫০ জন মুসল্লি। তাঁদের মধ্যে ২৬ জনকে গতকাল দাফন করা হয়েছে।
বন্দুকধারী যখন মসজিদে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি শুরু করেন, মুসল্লিরা তখন জুমার খুতবা শুনছিলেন। গতকাল সেই মসজিদে খুতবায় ইমাম গামাল ফাওদার বয়ান, ‘সন্ত্রাসী চেয়েছিল নিউজিল্যান্ডকে ছিন্নভিন্ন করে দিতে। তার বদলে আমরা দেখিয়েছি নিউজিল্যান্ড কতটা অবিচ্ছেদ্য।
সেই ঘটনার স্মরণে গতকাল আল নুর মসজিদকে ঘিরে সমবেত হয় ২০ হাজার মানুষ। এর মধ্যে পাঁচ হাজার মুসলিম। অন্যরা নানা ধর্ম–জাত–বর্ণের। দেশজুড়ে ওড়নায় মাথা ঢেকে মুসলিমদের প্রতি সংহতি জানান বিভিন্ন ধর্মের নারীরা। হতাহত ব্যক্তিদের জন্য শোক-সমবেদনা আর সম্মান জানিয়ে পালন করা হয় দুই মিনিটের নীরবতা।
সবকিছু ছাপিয়ে গেছে প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আহডার্নের ঘোষণায়, নিউজিল্যান্ড আপনাদের সঙ্গে শোকাহত, আমরা এক ও অভিন্ন।
তাঁর সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রিসভা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও। স্থানীয় সময় বেলা দেড়টায় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও রেডিওতে প্রচার করা হয় জুমার নামাজের আজান।
নিউজিল্যান্ড ওই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ভুলে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছে। অনেক জায়গায় মসজিদসংলগ্ন পার্কে শিশুদের খেলতে দেখা যায়।

