গাছ থেকে নামাতে ফায়ার সার্ভিসের সাহায্য!


paperslife

গ্রীষ্মের এই দাবদাহে তৃষ্ণা মেটাতে ডাবের পানি যেন অমৃত। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এই ডাব গাছে ডাব পাড়তে গিয়েই গাছে আটকে গেলেন আনন্দ। যাকে নামিয়ে আনতে সক্ষম হন ফায়ারসার্ভিস কর্মীরা।

গতকাল (শনিবার) দুপুরে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর বিএডিসির সারের গুদামের কাছে এই ঘটনাটি ঘটে। গুদামটির সীমানাপ্রাচীরের ভেতর রয়েছে অসংখ্য নারকেল গাছের সারি যেখানে ঝুলছে অনেক ডাব।

আনন্দ দাস নামের ওই ব্যক্তি লুকিয়ে ডাব পাড়ার উদ্দেশ্যে গাছে ঠিকঠাক ভাবে উঠলেও ডাব নিয়ে নামার সময় কয়েক ঘন্টার জন্য আটকে যান তিনি। অবশেষে তাকে নামানোর জন্য ফায়ারসার্ভিস ডাকা হয়।

সাথে আসেন পুলিশ এবং সাহায্য করেন বিদ্যুৎ কর্মীরাও। প্রায় এক ঘন্টা উদ্ধারতৎপরতা চলার পর আনন্দকে নামিয়ে আনতে সক্ষন হন ফায়ারসার্ভিস কর্মীরা।

ফায়ারসার্ভিস সূত্র থেকে জানা যায়, বিএডিসিকুলিয়ারচর উপজেলার এই সারের গুদামটি অচলাবস্থায় পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরেই যার ফলে লোকজনের স্বাভাবিক যাতায়াত এখানে কম।

গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে পথচারীদের চোখ আটকে যায় নারকেল গাছ গুলোর একটিতে। তারা দেখতে পান গাছে কেউ একজন আটকে আছেন। এরপর সর্বপ্রথম অবগত করা হয় ফায়ার সার্ভিসকে।

উদ্ধার কাজে আসেন সাত সদস্যের একটি দল। কিন্তু তাদের কাছে এত লম্বা মই না থাকায় তারা উদ্ধার কাজে ব্যর্থ হয়ে বিদ্যুৎ অফিসের সহায়তা চান।

তারা বড় একটি মই আনা সত্ত্বেও গাছের মাথার নাগাল পাওয়া গেলো না। এরপর ফায়ারসার্ভিস কর্মীরা গাছে উঠে রশির সাহায্যে আনন্দকে নামিয়ে আনতে সক্ষম হন। গাছে উঠার কারন যখন জানতে চাওয়া হয় ক্লান্ত আনন্দ তখন কথা বলতে পারছিলেন না।

অবশেষে তিনি বলেন, ‘অনেক গরম। তিলাস (তৃষ্ণা) লাগছিল। মনে হইছে ডাবের পানি খাইতে পারলে কলিজা ঠান্ডা হইব। নিচে চাইয়া দেহি আমি অনেক উপরে। এরপর আর কিছু কইতে পারতাম না।’

আনন্দ কুমার দাস পৌর শহরের দাসপাড়ার বাসিন্দা। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া কুলিয়ারচর ফায়ার সার্ভিসের ফায়ারম্যান শহীদ আলম জানান, ‘নারকেলগাছটির উচ্চতা ছিল অন্তত ২০০ ফুটের ওপরে। সমস্যা হলো এত বড় মই আমাদের নেই। বিদ্যুৎকর্মীরাও যে মই নিয়ে আসেন তা দিয়ে আনন্দকে নামিয়ে আনা কঠিন। শেষে রশি ব্যবহার করে আনন্দকে নামিয়ে আনতে সক্ষম হই।’

অন্যদিকে এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া। একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, নারকেলগাছ থেকে এক ব্যক্তিকে নামিয়ে আনার উপকরণ নেই ফায়ার সার্ভিসের। তাহলে ১০ তলা ভবনে আগুন লাগলে কী গতি হবে, তা সহজেই উপলব্ধ।