ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কারণে চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত বাড়িয়ে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
এর আগে সকাল ৬টার বুলেটিনে আবহাওয়া অধিদপ্তর এ দুই বন্দরে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলে। এর পর তা বাড়িয়ে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করা হয়। সকাল ১০টার একটু আগে তা বাড়িয়ে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত করা হয়।
মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর বিপৎসংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত বহাল রয়েছে।
উপকূলের দিকে ২২০ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’। কিছুটা দিক পরিবর্তন করলেও আজ বুধবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি খুলনাসহ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে একই সঙ্গে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বাংলাদেশের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড়টি প্রসঙ্গে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আম্ফান বুধবার সকাল ৬টায় চট্রগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৫৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ৫৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মংলা বন্দর থেকে ৩৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা বন্দর থেকে ৪১০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল।
এসময় প্রচণ্ড উত্তাল রয়েছে বঙ্গোপসাগর। এটি আজই বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে অতিসত্ত্বর নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
এছাড়া আরও বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় এবং দ্বিতীয় পক্ষের চাঁদের সময়ের শেষ দিনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১০-১৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছাসে প্লাবিত হতে পারে।
জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম জেলাসমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘণ্টায় ১৪০-১৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

